বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা, ব্যাংক ও বীমা খাতে নৈরাজ্য বন্ধ করা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতের আমির।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া
গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন এবং আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জামায়াত নেতারা বাংলাদেশের চামড়াশিল্প, পাটশিল্প, তৈরি পোশাক খাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তুর্কি প্রতিনিধিরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে তুরস্কের ভূমিকার প্রশংসা করে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে রোহিঙ্গাদের জন্য সর্বোচ্চ অনুদানদাতা দেশ তুরস্ক। সংকটের একটি যৌক্তিক ও স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশটিকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জামায়াতের আমির তুরস্ককে বাংলাদেশের ‘পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের উদ্দেশে একটি সম্মানসূচক শুভেচ্ছাপত্র পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের বাংলাদেশ সফরের জন্য উষ্ণ অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়।