মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

অনেক অনেক দিন আগের কথা নয়, পরের কথা। তখন পৃথিবীতে ডানাওয়ালা ঘোড়া বা রাক্ষস-খোক্কস আর ছিল না। তার বদলে ছিল উড়ন্ত গাড়ি আর কথা বলা রোবট। সেই শহরের এক উঁচু দালানের ছাদে থাকত ছোট্ট মেয়ে তুলি। তুলির খুব মন খারাপ, কারণ সে কোনোদিন নীল আকাশ দেখেনি। শহরের ধোঁয়া আর কালো মেঘে আকাশ সব সময় ঢাকা থাকে। শহরের বড় বড় দালানের আড়ালে আকাশ ঢাকা পড়ে গেছে। Kiswan তুলির একমাত্র বন্ধু হলো তার ছোট রোবট রিন্টু। রিন্টুর পেটে একটা স্ক্রিন আছে, সেখানে সে সারা দিন কার্টুন দেখায়। Google News গুগল নিউজে প্রতিদিনের বাংলাদেশ”র খবর পড়তে ফলো করুন এক দিন তুলি বলল, ‘রিন্টু, নীল আকাশ কেমন হয়? দাদি বলতেন, নীল আকাশে নাকি তুলোর মতো সাদা মেঘ ভাসে। আমি কি কোনোদিন মেঘ ছুঁতে পারব?’ রিন্টু তার যান্ত্রিক হাত নেড়ে বলল, ‘আমার মেমোরিতে নীল আকাশের ছবি আছে তুলি। কিন্তু আসল মেঘ তো অনেক ওপরে। চলো, আমরা মেঘ খুঁজতে যাই!’ রিন্টু তার পায়ের নিচ থেকে ছোট দুটো রকেট ইঞ্জিন বের করল। তুলি রিন্টুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ‘শুঁউউউ করে’ তারা উড়ে চলল ওপরের দিকে। কালো ধোঁয়া আর কুয়াশা পেরিয়ে তারা যখন অনেক ওপরে উঠল, তুলি অবাক হয়ে দেখল, সেখানে এক বিশাল মেঘের রাজ্য! সেখানে মেঘেরা পাহাড়ের মতো জমে আছে। ঠিক তখনই তুলি দেখল, একটা মেঘের কোণে বসে কাঁদছে এক ছোট্ট মেঘবালিকা। তার নাম ছিল নীলিমা। নীলিমার ডানাগুলো কেমন ধূসর হয়ে গেছে। তুলি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কাঁদছ কেন, মেঘবালিকা?’ নীলিমা ভেজা চোখে বলল, ‘নিচের শহরের মানুষগুলো এত ধোঁয়া ছাড়ছে যে, আমার ডানাগুলো ময়লা হয়ে গেছে। আমি আর উড়তে পারছি না। আকাশটা কালো হয়ে যাচ্ছে।’ রিন্টু তার রোবট-মস্তিষ্ক দিয়ে এক মুহূর্ত ভাবল। তারপর সে বলল, ‘চিন্তা করো না! আমার কাছে একটা সমাধান আছে।’ রিন্টু তার ভেতর থেকে একটা ছোট্ট ‘হাওয়া-পরিষ্কারক’ মেশিন বের করল। সে নীলিমার ডানার চারপাশের বাতাস পরিষ্কার করে দিল। তুলি তার রুমাল দিয়ে মেঘবালিকার ডানাগুলো মুছে দিল। দেখতে দেখতে নীলিমার ডানা আবার আগের মতো সাদা আর নরম হয়ে উঠল। খুশিতে নীলিমা নীল আকাশজুড়ে নেচে বেড়াল। সে তুলিকে উপহার দিল একমুঠো ‘জাদুকরী বৃষ্টির বীজ’। সে বলল, ‘এগুলো নিয়ে নিচে যাও। যেখানেই এই বীজ ফেলবে, সেখানেই সুন্দর সবুজ গাছ জন্মাবে। আর গাছ থাকলে বাতাসও পরিষ্কার থাকবে।’ তুলি আর রিন্টু নিচে ফিরে এলো। তারা শহরের আনাচে-কানাচে সেই বৃষ্টির বীজ ছড়িয়ে দিল। কয়েক দিন পর দেখা গেল, ধূসর শহরটা সবুজে ভরে উঠেছে। বাতাস থেকে সব ধোঁয়া হাওয়া হয়ে গেল। এখন তুলি রোজ সকালে জানালা খুললে নীল আকাশ দেখতে পায়। আর রিন্টু? সে এখন শুধু কার্টুন দেখায় না, সে এখন তুলির সঙ্গে বাগান করে আর পাখিদের গান শোনায়।

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com