নৃশংস এ ঘটনার পাঁচ দিনের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। গতকালও এই নিয়ে মানুষের মুখে মুখে ছিল নানা আলোচনা-সমালোচনা।
এর আগে গতকাল সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
বিকেলে মামলাটি বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এই মামলায় দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বদলির আদেশ দেন।
হাজতখানার ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন মোল্লা বলেন, শিশু রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সকাল ১১টার পর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।
এরপর গতকাল বিকেল ৪টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
পিপি নিয়োগ : এদিকে গতকাল এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি পরিচালনার জন্য আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
সেই সঙ্গে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত শুক্রবার ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে আসামিদের কোনো আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সরকারি খরচে আসামির পক্ষে আইনজীবী দেওয়া হয়েছে।
ছুটি পাচ্ছেন না বিচারক : এই ঘটনায় দ্রুত বিচার কার্যকর করার জন্য আগামী ১ জুন থেকে আদালতের অবকাশকালীন ছুটিও পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট বিচারক। আলোচিত এই মামলায় সারা দেশে দ্রুত বিচারের দাবি অব্যাহত আছে।
মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে : অভিযোগপত্র দাখিলের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। শুনানির সময় দুই আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হলেও এজলাসে তোলা হয়নি। এর আগে গত বুধবার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযোগপত্রের বিবরণ : মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে ফুঁসলিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা-বাবা। এক পর্যায়ে আসামির ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তাঁরা।
ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ঘরের ভেতরে একটি বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর স্বামী সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করেছেন। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে আলাদা করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
২৯ কার্যদিবসে রায় : মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাকিল হোসেন (২৪) নামের এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মাত্র ২৯ কার্যদিবসে ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর।
গতকাল রবিবার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আবদাল হকের ছেলে শাকিল হোসেন। মামলার এজাহারে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে অভিযুক্ত শাকিল হোসেন একই গ্রামের ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে কৌশলে পাটক্ষেতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় গাংনী থানায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আদালত।