সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মিশ্র বার্তা নিয়ে তেহরান ছাড়লেন মধ্যস্থতাকারীরা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

দফায় দফায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তেহরান ছেড়েছেন মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। একটি চুক্তিতে সম্মত করাতে এবং বিবদমান বিষয়ে সমাধানে পৌঁছতে তিনি এসব বৈঠকের পর ইরানের কর্মকর্তারা ‘মিশ্র বার্তা’ দিয়েছেন। তারা জানাচ্ছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চান। আর যদি তারা যুদ্ধ চায়, তাহলে তার জন্যও তারা প্রস্তুত।

তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা বলছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির বলেন, ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল শনিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন আসিম মুনির। পরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, তেহরান লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ চায়। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পারমাণবিক ইস্যু নিয়েও আলোচনা চলছে।

সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরান ‘লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ শেষ করার ওপর আলোচনাকে কেন্দ্রীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ পর্যায়ে আমরা পারমাণবিক বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা করব না। আমরা ৩০ বা ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ে প্রবেশ করব কিনা, তা পরের বিষয়।’

‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান কোনো আপস করবে না’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরানের অন্যতম শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল তেহরানে আলোচনার সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো সৎ পক্ষ নয়; ইরান তার জাতীয় অধিকারের বিষয়ে কোনো আপস করবে না।
পাকিস্তানের নেতৃত্বে একটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতা উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার মতপার্থক্য কমিয়ে আনা। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধের ফলে একটি উদ্বেগজনক যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বেশির ভাগ জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির উপস্থিতিতে মুনির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও দেখা করেন। পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তাঁর দুটি বৈঠক হয়।

জানা গেছে, এ আলোচনা ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে হয়েছিল, যেটিকে ইরান আলোচনার মূল কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে। পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা বিনিময়ও হয়। গালিবাফ বলেছেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে ও কূটনীতির মাধ্যমে তার ‘বৈধ অধিকার’ অনুসরণ করবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিন্দুমাত্র সততা নেই– এমন কোনো পক্ষকে বিশ্বাস করা যায় না।’ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ইরান আগেও বেশ কয়েকবার করেছে।

ইরানের স্পিকার বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘নির্বোধের মতো যুদ্ধ পুনরায় শুরু করে’, তবে এর পরিণতি আগের চেয়ে ‘আরও জোরালো ও তিক্ত’ হবে।

গতকাল সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ বাহিদির কারণে চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি আটকে আছে। তিনি মোহাম্মদ পাকপৌরের উত্তরসূরি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রথম যৌথ হামলায় পাকপৌর নিহত হন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্টের পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, ‘তিনি (বাহিদি) প্রভাবশালী, তবে সিস্টেমের অংশ।’

ইসরায়েলের মন্ত্রী বেন গাভিরকে নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স
গাজা ফ্লোটিলার কর্মীদের প্রতি তার ‘অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের’ জেরে ফ্রান্স ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরকে নিষিদ্ধ করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেন, তারা ‘ফ্লোটিলার কর্মপন্থাকে অসমর্থন করেন, যা কোনো কার্যকর প্রভাব ফেলে না এবং কূটনৈতিক ও কনস্যুলার পরিষেবাগুলোর ওপর বোঝা চাপায়। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা ফরাসি নাগরিকদের এভাবে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নৃশংসতার শিকার হওয়া সহ্য করতে পারি না, বিশেষ করে একজন সরকারি কর্মকর্তার দ্বারা।’

নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ‘ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতায় উস্কানি, চাঞ্চল্যকর বিবৃতি ও কর্মকাণ্ডের এক দীর্ঘ তালিকার’ পর করা হয়েছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বিদেশি কর্মীরা বলেন, আটকের পর ইসরায়েল তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com