প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এই কর্মসূচির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৩৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান হিসেবে ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। তবে কর্মসূচির পরিধি বাড়ায় আরো বেশি বিদেশি অনুদান প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পিইডিপি-৫ শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নয়; বরং এটি দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থায় রূপান্তরের একটি বড় উদ্যোগ।
একই সঙ্গে দেশের প্রায় এক কোটি ছয় লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মত : বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী কালের কণ্ঠকে বলেন, মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের জন্য শিক্ষকের সংখ্যা, যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো দরকার। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত শিশুদের শেখার মান বাড়ানো। এখনো অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তর শেষ করেও ঠিকমতো পড়তে বা মৌলিক গণিত করতে পারে না।
সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন : এই উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, পিইডিপি-৫ আগের যেকোনো ধাপের তুলনায় বেশি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক কর্মসূচি। এতে মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিত দক্ষতা বৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সহায়তা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল রূপান্তর এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ নামে একটি কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটির সভায় পিইডিপি-৫-এর জন্য মোট এক হাজার ৭০৯টি পদ ও সেবার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৫৩১ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক, উপ-প্রকল্প পরিচালক, শিক্ষা কর্মকর্তা, গবেষণা কর্মকর্তা, ক্রয় কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদও রাখা হয়েছে। বেশির ভাগ পদ প্রেষণ, অতিরিক্ত দায়িত্ব অথবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পূরণের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, পিইডিপি-৫-এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের রাজস্ব বাজেটে কোনো সমস্যা নেই, তবে বিদেশি অনুদান সংগ্রহে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এ বিষয়ে সমন্বয় করছে ইআরডি।