২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল ডিসির পাঠানো ওই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবে বলা হয়, রংপুর সদরের হরিদেবপুর ও রামনাথপুর মৌজায় কৃষিপণ্য ও ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প পার্ক স্থাপনের জন্য জমির অধিগ্রহণ মূল্যসহ সার্বিক দিক বিবেচনায় ১০০ একর জমি উপযুক্ত মনে হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু জমি অধিগ্রহণেই প্রায় ২৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বাজেট ধরা হয়। এর মধ্যে বাজারমূল্যের অতিরিক্ত ২০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রংপুর ডিসি অফিস সূত্র বলছে, সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথমে বিসিক থেকে অনুমোদন, এরপর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ও একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
এই প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় রংপুরে শিল্পায়নের গতি কমে যাচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহ হচ্ছেন, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের। তাঁদের দাবি, দ্রুত প্রস্তাবটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে একনেকে উপস্থাপিত না হলে রংপুর আরো পিছিয়ে পড়বে। ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালে চিঠি গেছে; এখন ২০২৬, কিন্তু কোনো অগ্রগতি নেই। এতে আমাদের আস্থা কমে যাচ্ছে। প্রকল্পটি দ্রুত এগোনো দরকার ছিল। এটি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নবঞ্চনার আরেকটি উদাহরণ।’
নারী উদ্যোক্তা রহিমা বেগম বলেন, ‘আমরা উৎপাদন করি, কিন্তু বাজার পাই না। আমাদের পণ্য বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। একটি সেলস সেন্টার হলে আমরা অনেক এগোতে পারতাম। এ সমস্যার সমাধান এই প্রকল্পেই ছিল।’
বিসিক উপমহাব্যবস্থাপক এহেছানুল হক বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ১০০ একর জমির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখানে ২০ একর খাসজমি রয়েছে, বাকি ৮০ একর কিনে নেব। এটাতে সরকারের হিউজ অ্যামাউন্ট খরচ হবে না, সেখানকার মৌজার দাম অনুযায়ী জমির দাম পাঁচ হাজার টাকা শতক। আমরা জায়গাটি সার্ভে করে দেখেছি, এটি শিল্প নগরী করার জন্য খুব ভালো জায়গা। এটি যদি বাস্তবায়ন করা যায় উত্তরবঙ্গে শিল্পায়নের বিস্তার ঘটবে।’