জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের পরিবর্তে আইন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বিচারকদের পরামর্শ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, আর্থিক কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক, কোনো ধরনের দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। বিচারকদেরও এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
গতকাল শনিবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অধস্তন আদালতের বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবিধানিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট সর্বোচ্চ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তা মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠানে হয়েছিল—উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘একজন বিচারকের স্বাধীনতা নিহিত থাকে তাঁর মননে, তাঁর কলমে, তাঁর চিন্তা-চেতনায়। সেই স্বাধীন আছে কি না, সেটাই হচ্ছে মুখ্য বিষয়।’
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘একজন বিচারক যেদিন চাকরিতে যোগদান করেন, সেদিনই ধরে নিতে হয় যে তাঁকে চাকরির জন্য বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে হবে।
এরপর যখন তিনি পোস্টিংয়ের জন্য তদবির-দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন, ঢাকায় থাকার জন্য পলিটিক্যাল এক্সিকিউটিভদের পেছনে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন, তাঁদের দিকে (পলিটিক্যাল এক্সিকিউটিভদের) তাকিয়ে থাকেন, তখন কিন্তু প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি (বিচারক) নিজের প্রতি যেমন জাস্টিস (ন্যায়বিচার) করতে পারেন না, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিও তা করতে পারেন না।’
বিচার বিভাগকে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় নিয়ে যেতে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা এ দেশে আর শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ চাই না। আমরা চাই না কোনো বিচারকের নেতিবাচক আচরণের কারণে গোটা জুডিসিয়ারির (বিচার বিভাগের) ওপর মানুষের ক্ষোভ ফিরে আসুক।
’
প্রধান বিচারপতির বাসভবন যাতে ভবিষ্যতে মানুষের ক্ষোভ, আক্রমণ বা অবমাননার প্রতীক হয়ে না ওঠে, সেটিও নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা রাত ১২টা-১টায় মোমবাতি জ্বালিয়ে বিরোধী পক্ষকে দমন-পীড়নের জন্য বিচারকাজ সম্পাদন করেছেন, আইন মন্ত্রণালয় তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে, এটা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, কারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কারণ জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাদের কাছে আমাদের জবাবদিহির বিষয় আছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যর্থ হই, তাহলে এই প্রতিষ্ঠানকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম, বাংলাদেশের মানুষের ন্যায়বিচারের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার সংগ্রাম, আইনের শাসন আর মানবাধিকার সবই ব্যর্থ হবে। আর আমরা আগামী প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে সেই ব্যর্থতার দায়ভার নিতে চাই না।
আর যদি এটা হয়, তাহলে সেটা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়।’
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি) মো. এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস ও বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান।