যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরায়েল-আমেরিকা-ইরান। তার রেশ বাংলাদেশেও পড়েছে। বেড়েছে জিনিসপত্রের দাম। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের কষ্ট।
যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরায়েল-আমেরিকা-ইরান। তার রেশ বাংলাদেশেও পড়েছে। বেড়েছে জিনিসপত্রের দাম। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের কষ্ট।
বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘ—এই ত্রিরত্নই বৌদ্ধ ধর্মের মূল ভিত্তি। এর মধ্যে সংঘ বা পবিত্র সম্প্রদায় হলো তৃতীয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রত্ন। এ বছরের মূল ভাবনায় রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের এই তৃতীয় রত্ন সংঘ বা পবিত্র সম্প্রদায়।
তেলরং, জলরং, গোয়াশ, টেম্পোরা, ভাস্কর্য, মিনিয়েচার, বাটিক, সুই-সুতা, মেহেদির মতো বিভিন্ন মাধ্যমে তৈরি ৯১টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। ৮০ জন শিল্পী বুদ্ধের অবয়ব, বাণী ও জীবনদর্শনের মহিমাকে চিত্রকলায় সজীব ও প্রাণময় করে উপস্থাপন করেছেন, যা দর্শকের মনে গভীর ও নান্দনিক অনুরণন তৈরি করেছে।
নানা কারণে আর দশটা প্রদর্শনীর চেয়ে এই প্রদর্শনীটি আলাদা। গত ১ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় লা গ্যালারিতে প্রবেশ করতেই তার আভাস মেলে। গ্যালারির একেবারে মাঝখানে মেঝেতে বসে ছিলেন নানা বয়সী শ খানেক দর্শক। সবাই তন্ময় হয়ে শুনছিলেন সরোদ আর তবলার নান্দনিক যুগলবন্দি। মাঝে মাঝে সুরের তালে গলাও মেলাচ্ছিলেন—‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে…।’ সরোদে সূত্রধর অর্জুন আর তবলায় মাসুম মিঞার যুগলবন্দিতে উপস্থিত দর্শকদের নিয়ে যায় অন্য ভুবনে। শেষে হাততালিতে ফেটে পড়ে গোটা গ্যালারি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রাচ্য-চিত্রকলা অনুশীলন সংঘের আহ্বায়ক ড. মলয় বালা বললেন, ‘বুদ্ধের বাণী আমাদের যে করুণা, মৈত্রী ও প্রজ্ঞার শিক্ষা দেয়, এই প্রদর্শনী তারই দৃশ্যমান এক রূপ। এবার অংশ নেওয়া ৮০ জন শিল্পীর মধ্যে ৪৫ জনই দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া অংশ নিয়েছেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমি এবং চীনের ইউনান আর্ট ইউনিভার্সিটির শিল্পীরা। মানে নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে বুদ্ধের দর্শন।’
প্রদর্শনীর প্রতিদিনই থাকছে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক নানা আয়োজন। বাঁশি, ভরতনাট্যম নৃত্য, দলীয় নৃত্য, আবৃত্তি ও সম্মিলিত সংগীত, মা-ছেলের যুগল পরিবেশনা, লোকসংগীত, গীতিকাব্য, চর্যাগানের আসর, তালতরঙ্গ মন কাড়ছে দর্শকদের। এ ছাড়া জলরং কর্মশালা, শিল্পীদের সঙ্গে গ্যালারি ভ্রমণ, বৌদ্ধ দর্শন নিয়ে আলোচনায় দর্শকরা পাচ্ছেন বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা।
প্রদর্শনীর শেষ দিন প্রদান করা হবে ‘বেস্ট আর্টিস্টস অ্যাওয়ার্ডস’। এরই মধ্যে প্রদর্শনীটি শিল্প ও আধ্যাত্মিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। আয়োজকরাও আশা করছেন এই আয়োজনের মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে সহমর্মিতা, করুণা ও সম্প্রীতির মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত হবে। যেমনটি বলছিলেন প্রদর্শনীর কিউরেটর মিখাইল ইদ্রিস—‘শ্রীবুদ্ধ ও বৌদ্ধ শিল্প আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সকল সত্তার সংঘ মানবতার আধ্যাত্মিক সংকট, দুঃখের বিরুদ্ধে এক গভীর আধ্যাত্মিক প্রতিষেধক হিসেবে বিদ্যমান, যা ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা, লিঙ্গভিত্তিক ও সামাজিক-অর্থনৈতিক বঞ্চনা এবং পার্থিব ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।’ ২৮ এপ্রিল শুরু হওয়া প্রদর্শনী চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। সবার জন্য উন্মুক্ত প্রদর্শনীটি।