মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মেধানির্ভর সৃজনশীল মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারে সক্ষম করে মানবসম্পদ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার মেধানির্ভর, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

গতকাল শনিবার সকালে বিয়াম ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করেছিল।

এরপর ২০০২ সালের নভেম্বর মাসে এটি বিয়াম ফাউন্ডেশনে রূপান্তরিত হয়। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিয়ামের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অগ্রযাত্রার দিন-তারিখগুলো প্রমাণ করে, দেশ ও জনগণের স্বার্থে বিএনপি সরকার বরাবরই একটি সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন দেখতে চেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেখতে চায়। সুতরাং আজ বিয়াম ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শুধু একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নয়; বরং এটি প্রশাসনিক সক্ষমতার উন্নয়ন, প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠন এবং মানবসম্পদ বিকাশের একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, ‘বিয়াম দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

আজ (গতকাল) যে ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতের প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই ভবন শুধু একটি অবকাঠামো নয়; এটি হয়ে উঠুক জ্ঞানচর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশের স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ নিজেরা সরাসরি ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার।

২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। সুতরাং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রের মালিক জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন কি না কিংবা পালন করতে সক্ষম ছিলেন কি না, এই মুহূর্তে সেই প্রশ্ন না তুলে আমি আপনাদেরকে এই মুহূর্তে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দিতে চাই—দেশ ও জনগণের কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছি, এসব স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়; বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সুতরাং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।

’ 

বিয়ামের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। আপনারা যে দায়িত্ব পালন করেন, তা শুধু নথিপত্র পরিচালনা বা প্রশাসনিক তদারকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আপনারা রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকারিতা, ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি। আপনাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব কখনো একটি পরিবারে, কখনো একটি অঞ্চলে, কিংবা কখনো পুরো জাতির ওপর পড়ে। সেই কারণে আপনাদের দায়িত্ব স্রেফ প্রশাসনিক নয়; বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যতে সব সরকারি সেবা তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিয়ামের কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করতে সরকার বিয়ামকে আরো যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারের নীতি নির্ধারণ এবং নীতি বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধ। আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা ও দায়বদ্ধতাই সরকারের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। আপনাদের প্রতি আমার আহবান, নিজেদের শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে ভাবুন।’

শিশুদের চিত্রাঙ্কনে অটোগ্রাফ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গতকাল সকালে ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অডিটরিয়াম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী ছুটে যান পাশেই থাকা স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে। তিনি বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন এবং একান্তে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিশুরাও মেতে ওঠে আনন্দে। চিৎকার দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে থাকে তারা।

শিশুরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তাদের আঁকা বিভিন্ন ড্রয়িং তুলে ধরে। অনেকে তাদের ড্রয়িংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অটোগ্রাফ নেয়। বড় হয়ে নিজেরা কে কী হতে চায়, সেই অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করে শিশুরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে। স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১১টা ৫ মিনিটে স্কুলে প্রবেশ করে প্রায় ১৫ মিনিট প্রধানমন্ত্রী স্কুলের শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করেন বলে জানায় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

কালেজছাত্রের বানানো গো-কার্ট চালালেন প্রধানমন্ত্রী

এক কলেজ শিক্ষার্থীর বানানো গো-কার্ট (রেসিং কার) চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তেজগাঁওয়ে গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ওই কলেজছাত্র রিজওয়ান রশিদ। সে সময় রশিদের বানানো গো-কার্টটি দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীকে গো-কার্ট তৈরির গল্প শুনিয়েছে রশিদ। সে বলে, তার বাবা একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যান্ত্রিক বিভাগে কর্মরত। বাবার অনুপ্রেরণাতেই গো-কার্ট বানানো শুরু করে সে। ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পর অবসর সময়টা কাজে লাগাতে কিছু করার পরিকল্পনা করে রশিদ। পরিবারের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেল কিনে দিলেও তার আগ্রহ ছিল গাড়িতে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকায় নিজেই গো-কার্ট তৈরি করে। প্রধানমন্ত্রী তার তৈরি গো-কার্টটি চালানোয় অভিভূত হয়ে পড়ে রশিদ। সে বলে, তার বানানো গাড়ি প্রধানমন্ত্রী চালাবেন তা সে ভাবতেই পারেনি, যা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। রশিদ বলেছে, মোহাম্মদপুর থেকে গো-কার্টটি চালিয়ে সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গো-কার্ট তৈরির বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রিজওয়ান রশিদের তৈরি করা গো-কার্ট পরিদর্শন করেন। এক পর্যায়ে তিনি রিজওয়ান রশিদকে এ রকম উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দিতে নিজেই কারটি চালিয়ে দেখেন।’

রাজধানীর সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশনা

রাজধানীর সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করে দেবে সরকার। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে তাঁদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ও ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com