সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মে মাসেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল নিয়ে আরো দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে। স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি দামে এসব তেল কেনা হলেও জ্বালানি সরবরাহ সংকট কাটাতে এই চালানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার জন্য পুরোপুরি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল পরিশোধন করে বাজারজাত করে ইস্টার্ন রিফাইনারি।
আমদানি বন্ধ থাকায় গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল দুটি ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সরকার স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে পরিশোধিত তেল কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ সংকট প্রকট হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক নিশ্চিত করে বলেন, মে মাসের মধ্যে মোট তিনটি কার্গোতে তিন লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছাবে।
এদিকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সড়ক ও নৌপথে পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে ডিজেল সংকটে পণ্য পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে।
লাইটারেজ জাহাজ মালিক শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তেলের সংকটের কারণে চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে বর্তমানে প্রায় ১২০টি জাহাজ অলস বসে আছে। চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে, যার ফলে আমদানিকারকদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ডেমারেজ চার্জ।
মে মাসের শুরুতে নতুন চালান পৌঁছালে শোধনাগারটি পুনরায় সচল হবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।