ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টা থেকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে দলের জন্য কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এদিন রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের প্রায় সাড়ে চার শর বেশি নারী নেত্রী সাক্ষাৎকার দিতে আসেন।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে গঠিত মনোনয়ন বোর্ড তাঁদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। বোর্ডের সামনে নেত্রীরা নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরছেন, যা আজ শনিবারও চলবে।
সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে তারেক রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
সাক্ষাৎকার শুরুর আগে রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক ভয়াবহ দুঃসময় পার করে আমরা আজকের গণতন্ত্র উত্তরণে এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি।
গণতন্ত্রকে সবল-সচল এবং শক্তিশালী করার জন্য এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে গত ১৬-১৭ বছর নেত্রী যাঁরা অবদান রেখেছেন, নিঃসন্দেহে তাঁদের সেই অবদানকে মূল্যায়ন করা হবে। সে ক্ষেত্রে আপনারা জানেন, আমাদের অনেক নেত্রীর নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে। তাঁরা শটগানের গুলি খেয়েছেন।
তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁদের সন্তানদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে। এই পৈশাচিক বিভীষিকা চলেছে তাঁদের ওপর। এই বিষয়গুলো দল বিবেচনা করবে। পাশাপাশি সংসদে কথা বলা, আইন প্রণয়নের ব্যাপারে জ্ঞান-শিক্ষা থাকা দরকার—এই বিষয়গুলো এখানে বিবেচিত হবে।
’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা সাক্ষাৎকার দিয়ে বের হয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকেই আছেন। কিন্তু পাবেন একজন। দেখে-শুনে, যাচাই-বাছাই করে আমরা একজনকে দেব। তবে যাঁকে দেব, তাঁকে মেনে নিয়ে আপনাদের সবাইকে দলের জন্য কাজ করতে হবে।’
এদিন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাহান পান্না, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী হেলেন জেরিন খান, ড. আরিফা জেসমিন, ইশতার জাহান পান্না, রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রত্না খাতুন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য মাহমুদা হাবিবা, রাজশাহী বিভাগ মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রোখসানা বেগম টুকটুকি, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, পাবনা জেলা মহিলা দলের সভাপতি পূর্ণিমা ইসলাম, বগুড়া জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু, নাজমা আকতার, নওগাঁ জেলা মহিলা দলের সভাপতি সামিনা পারভিন পলি, নাটোর জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমিন এবং জুলাই আন্দোলনের নেত্রী ফারজানা সিঁথি, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সহধর্মিণী রুমানা মাহমুদ প্রমুখ।