মানুষকে হালাল রিজিক অন্বেষণে সহযোগিতা করা এতটাই ফজিলতপূর্ণ কাজ যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই কাজে লিপ্ত ব্যক্তিকে মুজাহিদ বা সারা রাত দাঁড়িয়ে ইবাদত করে আবার দিনের বেলায় রোজা রাখা ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বিধবা ও মিসকিনের জন্য খাদ্য জোগাড় করতে চেষ্টারত ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের মতো অথবা রাতে নামাজে দণ্ডায়মান এবং দিনে সিয়ামকারীর মতো।
কারো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া মানে তার গোটা পরিবারসহ তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু লোকের হালাল রিজিকের ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করা । দুনিয়ায় মানুষের উপকার করার যে কয়টি মাধ্যম আছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি মানুষের উপকারে নিয়োজিত থাকে সে আল্লাহর কাছে অধিক উত্তম।
(মুজামুল আউসাত : ৬/১৩৯)
তাই সুযোগ থাকলে মানুষের উপকার করার চেষ্টা করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।
তা ছাড়া অসহায়ের খাবারের ব্যবস্থা করা, সামর্থ্য থাকলে তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। তিনি কাউকে ভিক্ষা দেওয়ার চেয়ে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়াকে বেশি পছন্দ করতেন। আনাস ইবনে মালেক (রহ.) থেকে বর্ণিত, একদা নবী (সা.)-এর কাছে এক আনসারি ব্যক্তি এসে ভিক্ষা চাইলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার ঘরে কিছু আছে কি?’ সে বলল, ‘একটি কম্বল আছে, যার কিছু অংশ আমরা পরিধান করি এবং কিছু অংশ বিছাই। একটি পাত্রও আছে, তাতে আমরা পানি পান করি।
উপরোক্ত হাদিসে দেখা যায়, রাসুল (সা.) একজন ভিক্ষুকের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তার দরিদ্রতার গ্লানি দূর করেন। তিনি চাইলে তাকে দু-এক দিনের খাবার দিয়েও উপকার করতে পারতেন। তা না করে তিনি তার দরিদ্রতা দূরীকরণে স্থায়ী সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মহানবী (সা.) অসহায় ব্যক্তিটিকে পুঁজি, ট্রেনিং, গাইডলাইন দিয়ে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
অতএব, বোঝা গেল যে মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও মুমিনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমল। মহানবী (সা.)-এর সুন্নত পালনের নিয়তে করলে এক ধরনের ইবাদতও বটে। তাই কারো কর্মসংস্থান সৃষ্টির সামর্থ্য থাকলে তাকে সহযোগিতা করার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত।