নিজস্ব প্রতিনিধি ; ‘শিল্প-সংস্কৃতির শহর’খ্যাত ময়মনসিংহে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রেখে এবারও জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ষবরণ উৎসব।
জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ময়মনসিংহে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ধারাবাহিকতা রয়েছে। একসময় মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রাই ছিল এ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ। যা শহর ঘুরে গিয়ে শেষ হতো শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ক-এ, যেখানে দিনব্যাপী চলত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সময় পরিক্রমায় এ শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন হয়ে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ হয়েছে। তবে করোনা মহামারির পর থেকে এ আয়োজনের জৌলুস কিছুটা কমে এলেও এবছর তা নতুন করে প্রাণ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগে ব্যবহৃত লোকজ সামগ্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে, নেওয়া হচ্ছে নতুন পরিকল্পনা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সামছুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, প্রয়াত শিক্ষাবিদ আমীর আহাম্মদ চৌধুরী রতনের মৃত্যুর পর তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা না বের হলেও নিজেদের উদ্যোগে বর্ষবরণ আয়োজন করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহের বৈশাখ উদযাপনের সূচনা ঘটে আশির দশকের শুরুতে। স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম সামদানী কোরায়শীর হাত ধরেই এ শোভাযাত্রার প্রচলন হয়। পরবর্তীতে আমীর আহাম্মদ চৌধুরী রতনের নেতৃত্বে এটি আরও বিস্তৃত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ময়মনসিংহের সংস্কৃতিকর্মী ও কবি স্বাধীন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, আমীর আহাম্মদ চৌধুরী রতনের সময় আমরা মুকুল নিকেতন স্কুলে ১৫ থেকে ২০ দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতাম। দিন-রাত পরিশ্রম করে পালকি, গরুর গাড়ি, মহিষের গাড়িসহ গ্রামবাংলার নানা ঐতিহ্যবাহী উপকরণ তৈরি করতাম। পহেলা বৈশাখের সকালে বের হতো মঙ্গল শোভাযাত্রা, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিতেন। উৎসবমুখর পরিবেশে শোভাযাত্রাটি যেত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালায়। তখন বৈশাখ উদযাপন ছিল সম্পূর্ণ সার্বজনীন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছুটা ভাটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ বছরও জেলার ৩২টি সাংস্কৃতিক সংগঠন একত্র হয়ে বর্ষবরণ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি সমন্বয় পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনও বর্ষবরণ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা করেছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান গণমাধ্যমকে জানান, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে ময়মনসিংহ।