সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মদনে ঝড়ে বাড়িঘর লন্ডভন্ড, শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে  বোরো ফসলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শতাধিক বাড়িঘর ও গাছপালা লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকেই উপজেলার পৌর সদরসহ ৮ ইউনিয়ন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। এর সঙ্গে তীব্র শিলাবৃষ্টি হওয়ায় বোরো ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়। অনেক কৃষকের ক্ষেতের পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ঝড়ের সময় বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, হঠাৎ এ ধরনের দুর্যোগে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তারা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের কদমশ্রী গ্রামের কৃষক নিকচন জানান, আমি চার একর জমি চাষ করেছিলাম। তিন চার দিনের মধ্যে কাটব বলে ভাবছিলাম। এতে প্রায় ৪শ মণ ধান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল শিলাবৃষ্টিতে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ১০০ মণ ধান পাওয়ার অবস্থা নেই।

একই অবস্থা হয়েছে তিয়শ্রী ফতেপুর, মাঘান ইউনিয়নে। মাঘান  ইউনিয়নের পদারকোনা গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, তিন একর জমি ৭০ শতাংশই এই ঝড়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

তিয়শ্রী ইউনিয়নের সাইতপুর গ্রামের কৃষক ইছাক মিয়া জানান, আমি ৮ একর জমি চাষ করি। দুই দিনের মধ্যে কাটার কথা ছিল ৮০ ভাগ শিলায় চলে গেছে। এখন শ্রমিক দিয়ে কাটলে শ্রমিকের খরচই হবে।

বৈটাখালি গ্রামের কৃষক আলী উসমান জানান, আমাদের দুই ভাইয়ের বসবাস করার ছিল মাত্র এই ঘরটি। সন্ধ্যায় এই ঘরটিও ঝড়ে ভেঙে দিয়েছে। সব ঘর পড়ে গেছে। এখন আমরা খোলা জায়গায় বসবাস করছি।

উপজেলার কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান মিজান জানান, পৌরসভাসহ ৮ ইউনিয়নে প্রায় ৬শ হেক্টর বোরো জমি শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে। সব চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ তিয়শ্রী, মাঘান, গোবিন্দশ্রী ও ফতেপুর ইউনিয়নে। তবে ১০০ হেক্টর জমি একেবারেই কাটা যাবে না। আমিসহ আমাদের লোকজন সকাল থেকেই মাঠে আছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেতবতী মিস্ত্রী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বেশ কিছু এলাকায় বোরো জমি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অফিসার মাঠে কাজ করছেন। আমিও তাদের মাধ্যমে খোঁজ খবর রাখছি। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে পরে জানানো হবে। তবে যে সব বাড়ি ঝড়ে ভেঙে গেছে তার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com