মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

জনগণের রায়কে অপমান, অস্বীকারই ফ্যাসিবাদের সূচনা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে
ফ্যাসিবাদ একটি রোগ উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো রোগী মারা গেলেই ফ্যাসিবাদ মারা গেছে—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। এটি এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয় এবং বর্তমানে আমরা সেই সংক্রমণের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। জনগণের রায়কে অবলীলায় অগ্রাহ্য, অপমান, অস্বীকার করা হচ্ছে ফ্যাসিবাদের সূচনা।

শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাফিস কনভেনশন সেন্টারে এক দায়িত্বশীল সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

 জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা এই সমাবেশের আয়োজন করে। 

শফিকুর রহমান বলেন, যারা অতীতে জুলুমের শিকার ছিলেন এবং যারা বর্তমানে সরকারে আছেন, তারা সবাই একসময় মজলুম ছিলেন। তাই আবারও জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা দেশে আর ফ্যাসিবাদ চাই না।

 

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরিসংখ্যান টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার বলছে তারা ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছে, কিন্তু একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছে। আপনারা ৫১ ভাগের দোহাই দিয়ে ৬৮ শতাংশ মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করছেন। এর নাম কি গণতন্ত্র?

জনগণের রায়কে প্রতিষ্ঠা করতে ১১ দল ও জামায়াত একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী চূড়ান্ত সংবিধান প্রণয়নের দাবিতে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার ঘোষণা দেন তিনি।

 

গণভোট নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানে নাকি এর উল্লেখ নেই। অথচ এই দেশেই পূর্বে একাধিকবার গণভোট হয়েছে এবং তার ফল বাস্তবায়িত হয়েছে। জনগণের ইচ্ছাই তো সর্বোচ্চ। সংবিধানেরও ঊর্ধ্বে জনগণের সার্বভৌমত্ব। আমরা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ ছিলাম।

কিন্তু যখন সরকার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেল, তখনই তাদের অবস্থান বদলে গেল। আমরা জনগণকে বলেছিলাম প্রতিনিধিত্বের জন্য ভোট দিন, আর রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গণভোটে মত দিন। জনগণ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। এখন সেই মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, সংস্কার ও সংশোধনের পার্থক্যও পরিষ্কার। সংশোধন মানে পুরনো পোশাক জোড়া লাগানো, আর সংস্কার মানে পুরোটাই বদলে নতুন কিছু গড়ে তোলা। আজ দেশের মানুষ প্রকৃত পরিবর্তন চায়, শুধু সামান্য সংশোধন নয়, একটি নতুন ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকার বলছে তেলের কোনো অভাব নেই, কিন্তু প্রশ্ন হলো, কার জন্য অভাব নেই? কোথাও কোথাও মজুদ করে রাখা হচ্ছে, পাম্পে লেখা থাকে তেল নেই, অথচ গোপনে বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। ১২২ টাকার তেল ৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী যে জ্বালানি সংকট চলছে, তা বাংলাদেশের সৃষ্ট নয়, এ কথা আমরা সংসদে স্পষ্টভাবে বলেছি। আমরা এটাও জানিয়েছি, এই সংকট মোকাবেলায় আমরা সবাই মিলে কাজ করতে চাই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকার বলছে কোনো সমস্যাই নেই। সংসদের ভেতরে এমনভাবে বক্তব্য দেওয়া হয়, যেন বাংলাদেশ তেলের উদ্বৃত্তে ভাসছে।

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেছেন, সরকার বারবার বলছে সবাই মিলে বাংলাদেশ। কিন্তু বাস্তবে সেই চিত্র কোথায়? বরং দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বদলে প্রশাসক বসানো হচ্ছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ সব জায়গায়। সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও সেখানে প্রশাসনিক নিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে, যা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারেননি, তাদেরই আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। তাহলে জনগণের ম্যান্ডেট কোথায়? সরকার বলছে জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়েছে, কিন্তু গণভোটে যে বিপুল জনগণ মত দিয়েছে, সেটিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে কেন?

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com