ঈদ মানেই আনন্দ আর নতুন পোশাকের উচ্ছ্বাস। বড়দের চেয়ে ছোটদের এ উচ্ছ্বাসটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। চাঁদরাত থেকে শুরু করে ঈদের সকাল পর্যন্ত থাকে তাদের নতুন জামা পরার অপেক্ষা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে ছোটদের ঈদ পোশাকের ধরন। এখন আর শুধু ঐতিহ্যবাহী পাঞ্জাবি বা ফ্রকেই সীমাবদ্ধ নয় বরং দেশীয় সংস্কৃতি, আধুনিক ফ্যাশন ট্রেন্ড–এমনকি প্রিয় কার্টুন চরিত্রের প্রভাবও জায়গা করে নিয়েছে শিশুর পোশাকে। ঈদকে ঘিরে ছোটদের পোশাক হয়ে উঠছে দিন দিন বৈচিত্র্যময়।
ডিজাইনার ও ফ্যাশন হাউসগুলো এখন শিশুদের জন্য আলাদা করে ভাবছে। কীভাবে আরাম, সৌন্দর্য ও উৎসবের আমেজ একসঙ্গে ফুটিয়ে তোলা যায় সে চিন্তা করছে। ছোটদের ঈদের পোশাক সম্পর্কে রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস জানান, ‘এবার ঈদ কালেকশনে ছোটদের পোশাকে আনা হয়েছে নতুনত্ব। এবারের মূল লক্ষ্য হলো বাহারি সব আরামদায়ক পোশাক। প্যাটার্ন ও মোটিফের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে ব্লক প্রিন্ট, ফুলেল নকশার সঙ্গে কিছু কার্টুন থিমের প্রিন্ট। সব মিলিয়ে শিশুর আরামের পাশাপাশি উৎসবের আমেজও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’
ছেলেশিশুর পোশাকে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। এসব পোশাকে এবার ব্যবহার হচ্ছে জ্যামিতিক প্রিন্ট, চেক, স্ট্রাইপ, ফুলেল ব্লক প্রিন্ট ও ঐতিহ্যবাহী মোটিফ। কলার, কাফ ও বুকে কনট্রাস্ট পাইপিং বা সূচিকর্মের কাজ যুক্ত করে নতুনত্ব আনা হয়েছে। সেইসঙ্গে কাঠের বোতাম, হ্যান্ডমেইড টার্সেল কিংবা ছোট্ট এমব্রয়ডারি প্যাঁচ পোশাককে করে তুলছে আকর্ষণীয়। অনেক পাঞ্জাবিতে দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল প্রিন্টের ব্যবহার, যেখানে হালকা রঙের ওপর সূক্ষ্ম নকশা ফুটে উঠছে। আবার অ্যাসিমেট্রিক কাট কিংবা শর্ট লেংথ ফতুয়ার চল বেড়েছে। পাশাপাশি ম্যাচিং জ্যাকেট বা ওয়েস্টকোট যুক্ত করে তৈরি হচ্ছে ফিউশন স্টাইল।
মেয়েশিশুর ঈদের পোশাকের বৈচিত্র্য আরও বিস্তৃত। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোয় মিলছে মেয়েদের বাহারি কাটছাঁটের পোশাক। ফ্রকের সঙ্গে সারারা, গাউন, লেহেঙ্গা কিংবা সালোয়ার-কামিজে ফুলেল নকশা এখন শীর্ষে। টিউলিপ, গোলাপ, সূর্যমুখী কিংবা ছোট ছোট বুনো ফুলের প্রিন্ট শিশুর পোশাকে এনে দিচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্য। এ ছাড়া পোলকা ডট, টাই-ডাই, অ্যাবস্ট্রাক্ট প্রিন্ট, কার্টুন মোটিফ ও রূপকথা-প্রেরিত ডিজাইনও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করছে। সুতি ছাড়াও মিলছে সিল্ক, লিনেন, ভিসকস, মসলিন কাপড়ের পোশাক। লেইস, নেট ও অরগাঞ্জা কাপড়ে লেয়ারিং প্যাটার্ন ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ঘেরওয়ালা ফ্রক, নায়রা কাট, কটি ফ্রক; যা শিশুর সাজে যোগ করছে রাজকীয়তা। এ ছাড়া লেহেঙ্গার আদলে রেডিমেইড শাড়িও বেশ নজর কাড়ছে।
ঐতিহ্যবাহী নকশার ব্যবহারও এবার লক্ষণীয়। জামদানি-অনুপ্রাণিত বুটিক কাজ, নকশিকাঁথার স্টিচ, আয়নাযুক্ত সুতার কারুকাজ ছোটদের পোশাকে যুক্ত হচ্ছে আধুনিকভাবে। বিশেষ করে হাতের কাজের সূক্ষ্ম অলংকরণ পোশাককে করে তুলছে উৎসব উপযোগী। অনেক ডিজাইনে দেখা যাচ্ছে বর্ডার ও হেমলাইনে আলাদা বা কন্ট্রাস্ট রং ও নকশার ব্যবহার; যা পুরো পোশাককে এনে দিচ্ছে ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্য। রঙের ক্ষেত্রে এবার কোমল, স্নিগ্ধ টোনগুলো বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। যেমন–সাদা, হলুদ, আইস ব্লু, ব্লু, প্যাস্টেল, মিন্ট, সি গ্রিন, মভপিংক, বেবি পিংক ইত্যাদি।
দরদাম
ব্র্যান্ডভেদে ছোটদের ঈদের পোশাকের দামে তারতম্য হয়। আড়ং, লা রিভ, রঙ বাংলাদেশ, কে ক্র্যাফট, টুয়েলভ ক্লদিংসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকে ছোটদের পোশাক কেনা যাবে ৮০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। নিউমার্কেট, গাউছিয়া, টোকিও স্কয়ার, কৃষি মার্কেট, রামপুরা মার্কেট, শ্যামলী স্কয়ার, সীমান্ত স্কয়ার, মৌচাকসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট থেকে ছোটদের পোশাক কেনা যাবে ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে।