সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে
একটি মাদকমুক্ত সমাজ আমরা সবাই চাই। তরুণরা মারণনেশায় আসক্ত না হয়ে দেশ গঠনে মন দেবে, জাতির কাণ্ডারি হয়ে পথ দেখাবে—এমনটা কে না চায়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, সমাজের শিরা-উপশিরা থেকে মাদকের বিষ নির্মূল করা যাচ্ছে না। মাদকাসক্তি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে ইয়াবা জব্দের পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণ। ২০২৪ সালে যেখানে দুই কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার পিসের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় চার কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১ পিসে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের সমন্বিত অভিযানে এসব ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দ্বিগুণ জব্দের পেছনে রয়েছে মাদক পাচার হয়ে আসার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া।

 

মাদকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এক দিনে হয়নি। বিগত ১৬ বছরে মাদক জব্দের পরিমাণ বেড়েছে ৩২৯ গুণ। অর্থাৎ বছর বছর এই প্রবণতা বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনেকেই আশা করেছিলেন, পরিস্থিতি পাল্টাবে।

কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টোটা। মাদকের ভয়াল থাবা ক্রমে আরো বিস্তৃত হয়েছে। মাদকের কারবার কিভাবে চলে, তা কমবেশি সবার জানা। মাদকের স্পটগুলোতে প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে মাদকসেবীদের আখড়া বসতে দেখা যায়। এসব স্পট পুলিশ বাহিনীর অজানা থাকার কথা নয়।
ক্ষমতাধরদের সবুজ সংকেত এবং অনৈতিক যোগসাজশেরও বহু অভিযোগ পাওয়া যায়। 

মাদকাসক্তদের নিয়ে রাষ্ট্র, সমাজ, এমনকি পরিবারও বিপদগ্রস্ত হয়। অনেক অভিভাবকই তাঁদের উঠতি বয়সের সন্তানদের নিয়ে রীতিমতো শঙ্কায় থাকেন। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে যায়। অপরাধবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পুলিশ চাইলে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা মোটেও কঠিন কাজ নয়। কারণ কারা কোথায় কিভাবে মাদক বিক্রি করছে, তা পুলিশের অজানা নয়।

তারুণ্য যেকোনো দেশের প্রধান শক্তি। সেই তারুণ্য যদি এভাবে ক্রমে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যায়, তাহলে এ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা জাগাটাই স্বাভাবিক। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস। দেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে। নতুন রাজনৈতিক সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আমরা আশা করি, মাদকের মতো মারণছোবল থেকে সমাজ রক্ষায় নতুন সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নেবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোকে আরো কঠোর হতে হবে। মাদক মামলার বিচার ত্বরান্বিত করতে হবে। চোরাচালান সিন্ডিকেট ও মাদক কেনাবেচায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com