বাংলাদেশে বলৎকার বা ধর্ষণ ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৭৫-৩৭৬ ধারা অনুযায়ী একটি গুরুতর অ-জামিনযোগ্য এবং আমলযোগ্য অপরাধ, যার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে [৫, ৭]। সম্মতি ছাড়া যৌনসঙ্গম বা জোরপূর্বক যেকোনো অঙ্গ প্রবেশই ধর্ষণ [১]। হাইকোর্টের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের পাশাপাশি পুরুষ ধর্ষণের (বলাৎকার) বিষয়টিও কঠোর আইনের আওতায় আসছে [৫]।
ফৌজদারী আইনে বলৎকারের (ধর্ষণ) মূল দিকসমূহ:
আইনগত সংজ্ঞা (দণ্ডবিধি ৩৭৫): নারীর সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক যৌনসঙ্গম করাকে ধর্ষণ বলা হয় [৫]।
বলাৎকার/পুরুষ ধর্ষণ: হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, নারী ধর্ষণের পাশাপাশি পুরুষ বা শিশুকে জোরপূর্বক যৌনাচার করা (বলাৎকার) ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করে আইনের অধীনে শাস্তির আওতায় আনার রুল জারি করা হয়েছে [৫]।
শাস্তি (দণ্ডবিধি ৩৭৬): ধর্ষণের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড বা আমৃত্যু কারাদণ্ডও হতে পারে [২, ৭]।
সম্মতি (Consent): সম্মতি স্বেচ্ছায় হতে হবে, কোনো ভয় বা ভীতি প্রদর্শন করে নয় [১]। অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অচেতন অবস্থায় দেওয়া সম্মতি আইনত বৈধ নয় [৪, ৬]।
মামলা ও বিচার: এটি একটি আমলযোগ্য অপরাধ, অর্থাৎ পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে এবং জামিন অত্যন্ত কঠিন [৬, ১০]।
প্রাসঙ্গিক আইনসমূহ: ১. দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860): ধারা ৩৭৫ (ধর্ষণের সংজ্ঞা) ও ৩৭৬ (শাস্তি) [৫]। ২. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০): ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে [৭]।
দ্রষ্টব্য: এটি আইনগত তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। আইনি সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।