বাংলাদেশে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪১৫-৪২০ অনুযায়ী প্রতারণা একটি গুরুতর ফৌজদারী অপরাধ, যার শাস্তি অপরাধের ধরনভেদে ১ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে [১, ৩, ৮]। মিথ্যা পরিচয়, জালিয়াতি বা অসৎ উদ্দেশ্যে কাউকে প্রলুব্ধ করে সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধ্য করাই প্রতারণা। গুরুতর ক্ষেত্রে (যেমন- ৪২০ ধারা) প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধ্য করার শাস্তির মেয়াদ সাধারণত সর্বোচ্চ ৭ বছর [২]।
ফৌজদারী আইনে প্রতারণার ধরন ও শাস্তি
সাধারণ প্রতারণা (ধারা ৪১৫-৪১৭): প্রতারণার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, কেউ যদি কাউকে প্রলুব্ধ করে অসাধুভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর বা কোনো কাজ করতে বাধ্য করে। এর জন্য ধারা ৪১৭ অনুযায়ী ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে [৯, ১৩]।
জালিয়াতি বা প্রতারণামূলক দলিল (ধারা ৪৬৩-৪৭১): ভুয়া দলিল তৈরি করে কাউকে ঠকালে বা অবৈধ সুবিধা নিলে এই ধারায় মামলা হয়।
গুরুতর প্রতারণা (ধারা ৪২০): অসাধুভাবে কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধ্য করা, যেমন- ব্যাংক বা অনলাইন প্রতারণা, চাকরির নামে টাকা নেওয়া। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড [২, ৮]।
বিশ্বাসভঙ্গ (ধারা ৪০৬-৪০৯): নিজের হেফাজতে থাকা সম্পত্তি বা অর্থ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করা [৩]।
আইনগত প্রতিকার ১. প্রতারিত ব্যক্তি প্রথমে স্থানীয় থানায় এজাহার (FIR) বা জিডি (GD) করতে পারেন। ২. সরাসরি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআরপিসি (CrPC) এর আওতায় মামলা করা যায় [১১]। ৩. অপরাধটি আমলযোগ্য হলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে [৩]।
দ্রষ্টব্য: এটি সাধারণ আইনি তথ্য। সুনির্দিষ্ট মামলার জন্য আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।