তাই পবিত্র শবে বরাত রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অতীতের পাপ–অন্যায়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার আশায়, পরম করুণাময় আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে নফল নামাজ পড়েন, কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং জিকিরে মগ্ন থাকেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন।
এমনকি অনেকেই এই দিনে রোজা রাখেন, গোপনে দান-খয়রাতের কাজ করেন, পূর্বপুরুষদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রার্থনা করেন এবং মুসলীমরা আত্মীয়-প্রতিবেশী-দুঃস্থদের মাঝে হালুয়া, ফিরনিসহ নানারকমের খাবার বিতরণ করেন। সারারাত মুসল্লীরা ইবাদতে মশগুল থাকেন।
শবে বরাতের ইতিহাস
হিজরি ৪৪৮ সনে প্রথম শবে বরাত পালনের প্রচলন হয় বলে ধারনা করা হয়। ইবনে আবিল হামরা নামে এক বায়তুল মুকাদ্দাস ফিলিস্তাইনের নাবলুস শহরের আসেন। তার তিলাওয়াত ছিল সুন্দর ও মধুর। তিনি শাবানের মধ্যরাত্রিতে নামাজে দাঁড়ালে, তাঁর পিছনে এক লোক এসে দাঁড়ান। তারপরে তার সঙ্গে তৃতীয় জন এসে যোগ দেন। এরপরে চতুর্থ জন। এভাবে একজন একজন করে, বিরাট একদল লোক এসে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। নামাজ আদায় করেন। পরবর্তী বছরেও তাঁর সঙ্গে অনেকে যোগ দেন ও নামাজ আদায় করেন। এতেই মাসজিদুল আক্সাতে এই নামাজের প্রথা চালু হয়ে যায়। কালক্রমে অনেকেই পরে একে সুন্নত মনে করতে শুরু করেন।
কোথায় কোথায় শবে বরাত পালন করা হয়
গোটা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া জুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে এই দিনটি পালন করা হয়। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, তুরস্ক, উজবেকিস্তান, তাজাকিস্তান, কাজাকিস্তান, তুর্কেমেনিস্তান, কিরগিজস্তান জুড়ে চলে শবে বরাতের উৎসব। আরব বিশ্বে কেবলমাত্র সুফি ঐতিহ্যের আরব ও শিয়া মুসলিমরা এই উৎসব পালন করেন। স্থানভেদে এই উৎসব ভিন্ন নামে পরিচিত। ইরান ও আফগানিস্তানে নিম শাবান, তুরস্কে বিরাত কান্দিলি, ভারতীয় উপমহাদেশে শবে বরাত বা নিফসু শাবান নামে শবে বরাত পরিচিত।
শবে বরাতের খাওয়াদাওয়া
পবিত্র শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বাড়িতে বাড়িতে নানা রকমের হালুয়া, ফিরনি, রুটি-সহ দারুণ খাবার তৈরির প্রচলন রয়েছে। এসব খাবার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যার পর অনেকে কবরস্থানে যান। আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
রমজানের শুরু
রমজানের আগমনী বার্তা হিসেবেই পবিত্র শবে বরাত মুসলিমদের কাছে প্রতীয়মান হয়। কারণ আরবি ক্যালেন্ডার অনুসারে শাবান মাসের পরেই আসে রমজান মাস। তাই মুসলীমদের কাছে শবে বরাতের রাত থেকে আসন্ন রমজানের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায় পুরোদমে।