সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

দূরদর্শী রাজনীতিবিদ বেগম খালেদা জিয়াকে জাতির আজ বড় প্রয়োজন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে
বেগম খালেদা জিয়াকে প্রথম দেখি ১৯৯১ সালের নির্বাচনী গণসংযোগকালে। তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে প্রার্থী হিসেবে দেওয়ানহাট মোড়সংলগ্ন ধনিয়ালাপাড়া এলাকায় গণসংযোগকালে এক পথসভায় ভাষণে বলেছিলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এই চট্টগ্রামে তিনি নিহত হন। তাই চট্টগ্রাম আমার শহর। এর উন্নয়নের দায়িত্ব আমার।

’ তিনি কথা রেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি চট্টগ্রামে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন। 

বিগত সরকার তাঁকে বিনা চিকিৎসায় মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক রেখেছিল। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছিল।

আজ তাঁর জীবন সংকটাপন্ন। তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বিগত ১৫ বছরে অত্যাচার-নির্যাতন ও কারাবাসের পরও আপস করেননি। তাঁকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মঈনুল রোডের সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। 

চট্টগ্রাম-৮ আসনতিনি যদি আপস করতেন, তাহলে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান হতো না। স্বৈরাচার শেখ হাসিনাও পালিয়ে যেতেন না। ১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যায়নি বিএনপি। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীসহ আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা মানে স্বৈরশাসনকে বৈধতা দেওয়া মনে করে বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের দৃঢ়তার কারণে তিনি দেশের মানুষের কাছে দ্রুতই আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পান। 

অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও করুণ পরিস্থিতিতে তাঁর রাজনীতিতে আগমন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নির্মমভাবে হত্যা করার পর গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে আবির্ভাব ঘটে বেগম খালেদা জিয়ার। রাষ্ট্রপতি হিসেবে  জিয়াউর রহমান সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তাঁর সময়ের অর্থনৈতিক সংস্কার, উৎপাদনের রাজনীতি এবং ১৯ দফা কর্মসূচি দেশকে একটি মজবুত অর্থনৈতিক ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেয়। প্রেসিডেন্ট জিয়ার মৃত্যুর পর বিচারপতি আবদুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এক পর্যায়ে আবদুস সাত্তারকে অপসারণ করে ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একদিকে দলীয় কোন্দল, অন্যদিকে বিএনপির অনেক নেতার এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগদান—এই দুই পরিস্থিতিতে বিএনপি তখন অনেকটা বিপর্যস্ত। দলকে সংগঠিত রাখার প্রয়োজনে তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র কিছু নেতার পরামর্শে এবং অনুরোধে ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই সময় থেকে মূলত বেগম খালেদা জিয়া হয়ে ওঠেন বিএনপির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর কঠিন দৃঢ়তা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং প্রখর দৃষ্টিভঙ্গি দলকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে নেয়। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বেগম খালেদা জিয়ার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আপসহীন ভূমিকা দেশব্যাপী তাঁর ব্যাপক পরিচিতি গড়ে তুলে। কয়েকবার আটক করার পরও আন্দোলন থেকে সরে আসেননি খালেদা জিয়া। ফলে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।

জীবনের প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বেগম খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনেই জয়লাভ করেন। রাজনৈতিক জীবনে যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কোনোটাতেই পরাজিত হননি তিনি। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকার গঠন করে। ক্ষমতায় আসার পর অতি দ্রুততার সঙ্গে দলের শীর্ষ পর্যায়ে জায়গা করে দেন তারেক রহমানকে। বর্তমান সময়ে এসে উপলব্ধি হচ্ছে বেগম জিয়ার সেই সিদ্ধান্ত কতটা সময়োপযোগী, প্রাসঙ্গিক ও দূরদর্শী ছিল। ২০১৮ সালের বির্তকিত রাতের ভোটের নির্বাচন বিএনপির ছয়জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিএনপি অনেকটা ইউটার্ন করে আন্দোলনের গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়। হরতাল, অবরোধের মতো নেতিবাচক রাজনীতির পরিবর্তে এক ভিন্নধর্মী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির সংমিশ্রণে এক অভূতপূর্ব সাড়া-জাগানো রাজনীতির সূচনা করে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হেঁটে, নদী সাঁতরে চিড়া-মুড়ি নিয়ে বিএনপির জনসভায় অংশ নিতে থাকে।

বেগম জিয়া বিরোধী দলগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে নিয়ে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করে মাত্র ১২ দিনের মাথায় সংসদ ভেঙে দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একই বছরের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১১৬টি আসনে জয়লাভ করে। বেগম খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং তিনি পুনরায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে ২০১১ সালের ৩০ জুন সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। ২০১৪ সালে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে ভোটারবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসে। ১৫৩টি আসনে আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তাদেরকে নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার কথায় আস্থা রেখে বিরোধী দলগুলো ২০১৮ সালের  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু এবার এক অভিনব কারচুপির আশ্রয় নেয় আওয়ামী লীগ। ভোটের আগের রাতেই অর্ধেক বাক্স ভর্তি করে রাখে। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রতিটি আসনে নিজেদের মধ্য থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেয়।

শেখ হাসিনা যদি দূরদর্শী হতেন, তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার মতো বিরোধী দলগুলোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন দিতেন। সেই নির্বাচনে পরাজিত হলে বিরোধী দলে থাকতেন। কিন্তু তাঁকে এভাবে অপমানিত হয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হতো না। দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞা না থাকলে রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন। রাজনীতিতে বেগম জিয়ার এই অকুতোভয়, প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব জাতিকে পথ দেখাবে বহুকাল।

দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাঁকে আজ যে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছেন এবং দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন, তা এই উপমহাদেশে খুব কম রাজনৈতিক নেতার কপালে জোটে। জীবিত অবস্থায় মানুষের যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন এর চেয়ে বড় সফলতা একজন রাজনীতিবিদের জীবনে আর কী হতে পারে? তাই বেগম খালেদা জিয়াকে জাতির আজ বড় প্রয়োজন।

লেখক : গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও উপসচিব, সিসিসিআই

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com