এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, গোয়ার উত্তরাঞ্চলে আরপোরায় জনপ্রিয় এই নাইটক্লাবের নাম ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’। সেখানে গত শনিবার রাতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বেশির ভাগই ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন। প্রথমে সন্দেহ করা হয়, রান্নাঘরের পাশে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত। কিন্তু গোয়া পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) পরিদর্শনের পর জানান, সিলিন্ডারগুলো অক্ষত ছিল।
রাতভর উদ্ধারকাজ চলে।
আনন্দবাজার পত্রিকা গতকাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নাইটক্লাবের দোতলায় তখন ‘শোলে’ সিনেমার ‘মেহবুবা ও মেহবুবা’ গানটি চলছিল। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছিল নাচ। সংগীতশিল্পীরা ছিলেন। গানের আসর বেশ জমে ওঠে। তালে তালে চলে নাচও। যে মঞ্চে নাচ হচ্ছিল, তার ঠিক পেছনেই সিলিংয়ে আগুনের শিখা দেখা যায়। তবে সেদিকে তখনো কারো নজর পড়েনি। সবাই গান আর নাচে মশগুল ছিলেন। আগুন একটু বাড়ল। তার সঙ্গে ধোঁয়াও। মঞ্চের উল্টো দিকে যাঁরা ছিলেন, তাঁদেরই প্রথমে নজরে যায়। ততক্ষণে সবার চোখ ওই আগুনের দিকে আটকে গিয়েছিল।
আগুন নজরে আসার পর ব্যান্ড, গিটার নিয়ে শিল্পীরা ছোটাছুটি শুরু করে দিলেন। নাচ-গানের সুর তাল থেমে গিয়ে চিৎকারে ভরে ওঠে নাইটক্লাবের দোতলা। সেখানে তখন ১০০ জনের মতো ছিলেন। তার মধ্যেই একজন নর্তকীর প্রশংসা করে বলে ওঠেন, ‘আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন তো আপনি!’ তখনো কেউ আন্দাজ করতে পারেননি, আগুনের করাল গ্রাসে চলে যাবে গোটা নাইটক্লাব। ছোটখাটো আগুন ভেবেই প্রথমে সেটি নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মঞ্চের সাজসজ্জায় থাকা সামগ্রী সেই আগুন নিমেষে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘ডিজে চলছিল। সবাই নাচছিলেন গানের তালে। সেই সময় ক্লাবেরই কয়েকজন কর্মকর্তা আতশবাজি পোড়ান। আর সেই আতশবাজির ফুলকি হোটেলের অন্দরসজ্জার সংস্পর্শে আসে, যেগুলো মূলত তালপাতা, বাঁশ, ফাইবার ও ঘাসের মতো জিনিস দিয়ে সাজানো হয়েছিল। সিলিংয়ে আগুন ধরে যায় প্রথমে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, ‘ওই মুহূর্তে ক্লাবের আলো নিভে গিয়েছিল। অন্ধকারে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তার পরই কিছু একটা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল গোটা পরিসর। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।’ সূত্র : এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা