* মাছের শুটকিকরণ হলো প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কাঁচা মাছ থেকে পানি অপসারণ করা। কাঁচা মাছ রোধে শুকিয়ে শুটকি করা হয়।
* শুটকির জন্য মাছ এমন করে শুকান যাতে হাত দিয়ে ধরলে ভেজা ভেজা না লাগে। আবার মাছ শুকিয়ে একেবারে শক্ত হয়ে না যায়।
* ভালো শুটকি মাছের দেহে পানির পরিমাণ ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ থাকে। চেষ্টা করুন শুটকি মাছের পানি এই মাত্রার মধ্যে রাখতে।
* ছোট বড় প্রায় সব ধরনের মাছ শুটকি করা যায়। শুটকি করার মাধ্যমে মাছের অপচয় রোধ করা যায়। মৌসুমে অতিরিক্ত মাছ পচে নষ্ট হয় না।
* চর্বিযুক্ত মাছ দেরিতে শুকায়। এ জন্য সময় বেশি লাগে। কম মাংসযুক্ত মাছ দ্রুত শুকায়। তাই শুটকি তৈরির জন্য কম চর্বিযুক্ত মাছ নির্বাচন করা ভালো।
* শুটকি করার আগে মাছ পরিষ্কার পাত্রে, পরিচ্ছন্ন জায়গায় রাখুন।
* মাছের আঁশ, পাখনা, নাড়িভুড়ি সতর্কতার সঙ্গে অপসারণ করুন যাতে মাংসপেশীর ক্ষতি না হয়।
* শুটকির জন্য মাছ ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন; যাতে রক্ত, ময়লা, শ্লেষা ইত্যাদি না লেগে থাকে।
* ধোয়ার সময় মাছ ২ থেকে ৫ শতাংশ লবণ পানিতে ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতে ব্যাকটেরিয়ার প্রাথমিক সংক্রমণ এড়ানো যায়।
* বালি বা মাটির উপর না রেখে উচু মাচার উপর শুটকি করুন। শুকানোর সময় মাচা জাল বা পলিথিন শিট দিয়ে ঢেকে দিন যেন কিট পতঙ্গ শুটকিতে সংক্রমণ না করতে পারে।
* এক কেজি মাছের জন্য ৩০ গ্রাম মরিচ গুঁড়া এবং ১০ গ্রাম হলুদ গুঁড়া একসঙ্গে মাছে মাখিয়ে দিন। এতে শুকানোর পর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।
* বায়ূরোধক পাত্রে শুটকি সংরক্ষণ করুন। বাতাসের সংস্পর্শে শুটকি নরম হয়, ফাঙাস, মোল্ড ইত্যাদির সংক্রমণ ঘটে। ছোট ছোট বক্সে বা ব্যাগে ভরে শুটকি সংরক্ষণ করুন।
* শুটকির প্যাকেট নিমপাতা গুঁড়া রেখে দিন। পোকা আক্রমণ করবে না। যদি শুটকি একটু ভেজা ভেজা হয়ে যায় তবে তা আবার রোদে শুকিয়ে একইভাবে প্যাকেট করে রাখুন।