সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শুটকি করার স্বাস্থ্যকর উপায়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান শুটকি মাছ। স্বাদ ও ঘ্রাণেও অতুলনীয় শুটকি। গরম ভাতের সঙ্গে শুটকির ভর্তা বা ভুনা জিবে জল এনে দেয়। রুচিবর্ধক খাবার হিসেবেও পরিচিত শুটকির পদ।

শুটকি মাছের উপকারিতাও অনেক। শুটকি থেকে প্রাটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন ডি’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তাজা মাছের তুলনায় শুটকি মাছে আমিষের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ। শুটকিতে থাকা উন্নতমানের আমিষ দেহের গঠন, ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রোদে শুকানোর ফলে শুটকি মাছ পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি শোষণ করে। যা মানবদেহের নখ, দাঁত ও হাঁড়ের গঠন মজবুত করে। তাজা মাছের তুলনায় শুটকি মাছে খনিজ লবণ [যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ফেরাস, আয়রন] বেশি থাকে। আয়রন রক্তস্বল্পতারোধে ভূমিকা রাখে।
বাজারে ভালো শুটকির প্রচুর চাহিদা। ভেজাল শুটকি কিনে প্রতারিত হন অনেকে। শুটকির রং ভালো রাখতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক এবং পচন রোধে ফরমালিনের হরদম ব্যবহার হয়। এ জন্য বাড়িতে নিজস্ব তত্বাবধানে শুটকি করতে পারেন। কিছু নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যসম্মভ উপায়ে মাছ কিনে বা ধরে শুটকি করতে পারবেন আপনিও।
যা স্বাস্থ্যের জন্যও নিরাপদ। 

*     মাছের শুটকিকরণ হলো প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কাঁচা মাছ থেকে পানি অপসারণ করা। কাঁচা মাছ রোধে শুকিয়ে শুটকি করা হয়।
*     শুটকির জন্য মাছ এমন করে শুকান যাতে হাত দিয়ে ধরলে ভেজা ভেজা না লাগে। আবার মাছ শুকিয়ে একেবারে শক্ত হয়ে না যায়।
*    ভালো শুটকি মাছের দেহে পানির পরিমাণ ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ থাকে। চেষ্টা করুন শুটকি মাছের পানি এই মাত্রার মধ্যে রাখতে।
*     ছোট বড় প্রায় সব ধরনের মাছ শুটকি করা যায়। শুটকি করার মাধ্যমে মাছের অপচয় রোধ করা যায়। মৌসুমে অতিরিক্ত মাছ পচে নষ্ট হয় না।
*     চর্বিযুক্ত মাছ দেরিতে শুকায়। এ জন্য সময় বেশি লাগে। কম মাংসযুক্ত মাছ দ্রুত শুকায়। তাই শুটকি তৈরির জন্য কম চর্বিযুক্ত মাছ নির্বাচন করা ভালো।
*    শুটকি করার আগে মাছ পরিষ্কার পাত্রে, পরিচ্ছন্ন জায়গায় রাখুন।
*    মাছের আঁশ, পাখনা, নাড়িভুড়ি সতর্কতার সঙ্গে অপসারণ করুন যাতে মাংসপেশীর ক্ষতি না হয়।
*     শুটকির জন্য মাছ ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন; যাতে রক্ত, ময়লা, শ্লেষা ইত্যাদি না লেগে থাকে।
*     ধোয়ার সময় মাছ ২ থেকে ৫ শতাংশ লবণ পানিতে ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতে ব্যাকটেরিয়ার প্রাথমিক সংক্রমণ এড়ানো যায়।
*    বালি বা মাটির উপর না রেখে উচু মাচার উপর শুটকি করুন। শুকানোর সময় মাচা জাল বা পলিথিন শিট দিয়ে ঢেকে দিন যেন কিট পতঙ্গ শুটকিতে সংক্রমণ না করতে পারে।
*    এক কেজি মাছের জন্য ৩০ গ্রাম মরিচ গুঁড়া এবং ১০ গ্রাম হলুদ গুঁড়া একসঙ্গে মাছে মাখিয়ে দিন। এতে শুকানোর পর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।
*    বায়ূরোধক পাত্রে শুটকি সংরক্ষণ করুন। বাতাসের সংস্পর্শে শুটকি নরম হয়, ফাঙাস, মোল্ড ইত্যাদির সংক্রমণ ঘটে। ছোট ছোট বক্সে বা ব্যাগে ভরে শুটকি সংরক্ষণ করুন।
*     শুটকির প্যাকেট নিমপাতা গুঁড়া রেখে দিন। পোকা আক্রমণ করবে না। যদি শুটকি একটু ভেজা ভেজা হয়ে যায় তবে তা আবার রোদে শুকিয়ে একইভাবে প্যাকেট করে রাখুন।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com