সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

স্বাধীনতার পথে বড় পদক্ষেপ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নিঃসন্দেহে দেশের বিচার বিভাগীয় কাঠামোতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার যে আলোচনাটি নানা পর্যায়ে চলমান ছিল, অবশেষে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে একটি সুস্পষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক্করণের যে মৌলিক নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, এই অধ্যাদেশ তারই বাস্তব প্রতিফলন।

গত রবিবার অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশ জারি করে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নামে একটি স্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা হবে, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে প্রধান বিচারপতির হাতে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বিষয়ে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। ১৯৭৫ সালের চতুর্থ ও ১৯৮৯ সালের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে আনা পরিবর্তন বিচার বিভাগের স্বাধীন চরিত্রকে দুর্বল করেছিল। হাইকোর্টও সাম্প্রতিক রায়ে মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল এবং তিন মাসের মধ্যে স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দেন।
সেই বিচারিক নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। 

এই সচিবালয় অধস্তন আদালতগুলোর তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং আদালতের কাঠামোসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে, যা এত দিন আইন মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী বিভাগ থেকে করা হতো। এই পরিবর্তন বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলেই আশা করা যায়।

অবশ্য কিছুটা উদ্বেগের জায়গাও আছে।

অধ্যাদেশ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাবেক বিচারক মাসদার হোসেন বলেন, ‘আমি তো গেজেটটা দেখিনি। শুনেছি দুটি ডিজাস্টার হয়েছে। একটি হলো জুডিশিয়াল অফিসার সচিবালয়ের আওতায় আসেনি বলে শুনলাম। তা ছাড়া বিচারকদের পরিপূর্ণভাবে অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও দেওয়া হয়নি বলে শুনেছি। যদি তা-ই হয়ে থাকে, তবে এ দুটি মারাত্মক অসম্পূর্ণতা।
’ বিচার বিভাগকে প্রশাসনিকভাবে স্বশাসিত করতে হলে আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অবশ্যই প্রয়োজন। পাশাপাশি সচিবালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো, জনবল নিয়োগ, নিয়ম-কানুন ও ক্ষমতার প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। 

তবু সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় সংস্কারে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি আরো স্বাধীন, দক্ষ ও আধুনিক বিচার প্রশাসনের পথ সুগম হতে পারে, যেখানে বিচার বিভাগ সত্যিকারের অর্থেই রাষ্ট্রের স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ এক স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com