হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্তাবলী রয়েছে এবং বাংলাদেশে এই সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী শুধু ছেলেশিশু দত্তক নেওয়া যায়। দত্তক গ্রহণে ইচ্ছুক পুরুষকে দত্তক নেওয়ার সময় কোনো জীবিত পুত্র, পৌত্র বা প্রপৌত্র থাকা চলবে না। দত্তক সন্তান স্বাভাবিক সন্তানের মতো আইনি মর্যাদা ও উত্তরাধিকারের অধিকার লাভ করে, তবে বাংলাদেশে এখনো মেয়ে সন্তান দত্তক নেওয়ার কোনো বিধান নেই।
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের শর্তাবলী
পুত্র দত্তক গ্রহণ: দত্তক গ্রহণকারী পুরুষকে অবশ্যই পুত্রহীন হতে হবে। অর্থাৎ, তার কোনো জীবিত পুত্র, পৌত্র বা প্রপৌত্র থাকা যাবে না।
কন্যা দত্তক গ্রহণ: কোনো হিন্দু ব্যক্তির যদি কোনো জীবিত কন্যা বা পৌত্র-কন্যা না থাকে, তবেই তিনি কন্যা দত্তক নিতে পারেন। তবে বাংলাদেশে এখনো মেয়ে সন্তান দত্তক নেওয়ার কোনো আইনগত বিধান নেই।
ধর্মীয় উদ্দেশ্য: হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক বংশধারা ও ধর্মীয় রীতিনীতি অব্যাহত রাখা।
বৈধতা: দত্তক গ্রহণকারীকে অবশ্যই একজন হিন্দু হতে হবে এবং তিনি যে সন্তানকে দত্তক নিচ্ছেন, তাকেও হিন্দু হতে হবে।
অন্যান্য শর্ত: দত্তক গ্রহীতার বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে।
দত্তক সন্তানের অধিকার ও মর্যাদা
উত্তরাধিকার: দত্তক সন্তান স্বাভাবিক পুত্রের সমান উত্তরাধিকারের অধিকার লাভ করে এবং পূর্বপুরুষের সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার পায়।
আইনি মর্যাদা: দত্তক সন্তান জন্মসূত্রে পাওয়া সব আইনি অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা পায়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বাংলাদেশে আইন: বাংলাদেশে হিন্দু আইনে শুধুমাত্র পুত্রসন্তান দত্তক নেওয়ার বিধান আছে। যদিও হিন্দু মাইনরিটি অ্যান্ড গাইডশিপ অ্যাক্ট, ১৯৫৬ অনুযায়ী মেয়েসন্তান দত্তক নেওয়া সম্ভব, কিন্তু বাংলাদেশে এই আইনটি এখনো প্রযোজ্য নয়।
দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া: বাংলাদেশে দত্তক নেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট আইন নেই, তাই এটি হিন্দু আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
অন্যান্য বিধান: দত্তক গ্রহীতা বিবাহিত, অবিবাহিত বা বিপত্নীক যা-ই হোন না কেন, দত্তক নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে, একজন অবিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে দত্তক নেওয়ার অধিকার সীমিত।