সাইবার নিরাপত্তায় কেন ঘাটতি
সাইবার নিরাপত্তার রয়েছে তিনটি স্তম্ভ—পিপল (মানুষ), প্রসেস (প্রক্রিয়া) এবং টেকনোলজি (প্রযুক্তি)। বাংলাদেশে সবসময়ই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন টেকনোলজি ব্যবহারে। অথচ অতি প্রয়োজনীয় প্রথম স্তম্ভ অর্থাৎ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী জনবল তৈরিতে রয়ে গেছে চরম ঘাটতি। স্পেশালিস্ট ট্রেনার, রিসোর্চ হাব বা সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষায় সহায়ক প্রোগ্রামের সংখ্যা নগণ্য, নেই বললেই চলে।
এ শূন্যতা পূরণেই কাজ করছে টিম ফিনিক্স। দেশের তরুণদের সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ করে তোলাই তাদের লক্ষ্য। এতে করে ভবিষ্যতে দেশেই সাইবার নিরাপত্তা গবেষক, ট্রেনার বা উদ্যোক্তা তৈরি হবে, বাড়বে দেশের সাইবার শক্তি।
টিম ফিনিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ অব রিসার্চ এ এস এম শামীম রেজা বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে দেখেছি যে বাংলাদেশে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম থাকলেও সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো দক্ষ জনশক্তি (পিপল) ও প্রক্রিয়ার।
টিম ফিনিক্সের পথচলা
চারটি প্রধান শাখা বা উইংয়ের মাধ্যমে কাজ করছে টিম ফিনিক্স। এর মধ্যে আছে—
ফিনিক্স একাডেমি : কর্মশালার মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয় ফিনিক্স একাডেমি।
রিসার্চ সেন্টার : বিভিন্ন সাইবার আক্রমণ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সাহায্য করার জন্য নতুন টুল বানায় রিসার্চ সেন্টার।
সুডোকাস্ট : সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তৈরি টেক শো। অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে সুডোকাস্ট পডকাস্ট-এর মাধ্যমে।
ফিনিক্স সামিট ও রেনাসকন : বিভিন্ন কমিউনিটি ইভেন্টের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তরুণদের মধ্যে।
সুডোকাস্ট ও সামিট
টিম ফিনিক্সের বড় প্রকল্প সিকিউরনেট বিডি। দেশের প্রথম সাইবার সেন্টার অব এক্সিলেন্স (CCoE) ও কমিউনিটিচালিত SOC/CSIRT তৈরির পরিকল্পনা এটি। এর মধ্যে থাকছে ‘সাইবার রেঞ্জ’ নামের এক ভার্চুয়াল স্পেস, যেখানে সাইবার হামলা প্রতিরোধের উপায় অনুশীলন ও গবেষণা করা যাবে। ফেলোশিপ ও মেন্টরশিপ প্রোগ্রামও থাকছে, যার মাধ্যমে ক্যারিয়ার-ওরিয়েন্টেশনসহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কমিউনিটি SOC/CSIRT হবে সাইবার নিরাপত্তা সহায়তা কেন্দ্র। সাইবার হামলা ঠেকাতে যেকোনো প্রতিষ্ঠান টিম ফিনিক্সের থেকে পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ বা জরুরি সহায়তা পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক হাজার শিক্ষার্থীকে শুরুতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ফান্ডিং
অস্ট্রেলিয়ার এক আন্তর্জাতিক ফাউন্ডেশনের অনুদান পেয়েছে টিম ফিনিক্স। তবে অনুদান নয়, দীর্ঘ মেয়াদে নিজেরাই নিজেদের অর্থ জোগানের টেকসই মডেল গড়ে তুলতে চায় তারা। সাইবার নিরাপত্তা সেবা, ট্রেনিং ফি এবং পার্টনারশিপের মাধ্যমে অর্থসংস্থান করবে। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে তথ্য-প্রযুক্তি ও সেবার একটি আঞ্চলিক হাবে পরিণত করা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দেশের প্রতিটি বিভাগে সাইবার রিসোর্স সেন্টার, উদ্যোক্তাদের জন্য ইনকিউবেশন সিস্টেম এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে যোগ্য সাইবার নিরাপত্তা কর্মী তৈরি করা।
প্রতিষ্ঠাতা শামীম রেজা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সাইবার সিকিউরিটি লিডার হিসেবে প্রশংসিত হবেন।