সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বিশাল পাখির আশ্চর্য দুনিয়া

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

ভাবা যায় ৯ ফুট লম্বা এক বিশাল পাখি, আবার কেউ ডানা মেলে উড়ে যায় আকাশজোড়া দূরত্বে! পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখির গল্প যেন রূপকথার মতোই মজার। কেউ লম্বায় বিশাল, কেউ বা ডানার প্রস্থে অদ্বিতীয়। পৃথিবীতে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখি আছে। কেউ ওজনে কয়েক গ্রামের মতো হালকা, আবার কেউ শত কেজির ভারী দেহ নিয়ে ছুটে বেড়ায়।
সবচেয়ে বড় পাখি হলো উটপাখি। ৯ ফুট লম্বা, ওজন প্রায় ১৩০ কেজি পর্যন্ত। ওরা উড়তে পারে না, কিন্তু দৌড়ানোর বেলায় অদ্বিতীয়! ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়ায়। ডানা দিয়ে ভারসাম্য রাখে, দৌড়ের দিক বদলায়, এমনকি হঠাৎ থেমেও যায়। শত্রু এলে লাথিতেই মেরে ফেলতে পারে সিংহ পর্যন্ত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিম উটপাখির। ওজন দেড় কেজি থেকে দুই কেজি পর্যন্ত হয়। উটপাখির মূল নিবাস আফ্রিকা মহাদেশের বিস্তৃত তৃণভূমি ও মরুভূমি অঞ্চল। একসময় এরা মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলেও ছিল। এখন মূলত আফ্রিকাতেই সীমাবদ্ধ। বর্তমানে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে উটপাখির খামার গড়ে উঠেছে, যেখানে বাণিজ্যিকভাবে পালন করা হয়। এদের আয়ুষ্কাল গড়ে ৪০ থেকে ৫০ বছর। এমন আরও কয়েকটি বিশাল পাখির কথা নিচে বলা হলো।
ভয়ংকর দেখতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনি বনের বাসিন্দা ক্যাসোয়ারি। ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশেও এদের পাওয়া যায়। পাঁচ থেকে ছয় ফুট উচ্চতার এই পাখির ওজন ৬০ থেকে ৮০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। মাথায় আছে শিং-আকৃতির শক্ত খাঁজ। দেখতে দারুণ, কিন্তু সাবধান! এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক পাখিদের একটি। হুমকি পেলে এরা লাফিয়ে লাথি মারে, চার ইঞ্চি লম্বা ধারালো নখর দিয়ে আঘাত করলে মানুষ বা কুকুর মারা যেতে পারে। অনেক বনজ উদ্ভিদের বীজ ছড়ানোর ক্ষেত্রে ক্যাসোয়ারির ভূমিকা অমূল্য। এ জন্য একে ‘অরণ্যের মালী’ বলা হয়। স্থানীয় আদিবাসীরা একে ‘জঙ্গলের আত্মা’ বলে মানে।
জলাভূমির রাজা হলো শুবিল। শুবিলের নাম এসেছে এর বিশাল, মোটা ও জুতার মতো ঠোঁট থেকে। নামটাই যেন এক রহস্যের ইঙ্গিত দেয়। এই অদ্ভুত প্রাগৈতিহাসিক চেহারার পাখিটি বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর পাখি। পাঁচ ফুট উঁচু, মুখটা যেন তিমির মতো। এ জন্য নাম হয়েছে হোয়েল-হেডেড স্টর্ক।
শান্তভাবে জলাশয়ে দাঁড়িয়ে মাছ ধরার ওস্তাদ। একাকী থাকতে ভালোবাসে আর নিজের এলাকা কড়াভাবে রক্ষা করে। শুবিল মূলত মধ্য আফ্রিকার জলাভূমি ও পাপড়িডরা এলাকায় দেখা যায়। মজার বিষয় হলো, যদি দুটি ছানা ফোটে, সাধারণত একটিই বেঁচে থাকে–বড়টি ছোটটিকে প্রতিযোগিতায় সরিয়ে দেয়। বর্তমানে প্রকৃতিতে প্রায় তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার শুবিল বেঁচে আছে বলে ধারণা করা হয়।
গ্রিক  হার্পি ঈগল। পুরাণের হার্পি থেকে এ নাম নেওয়া। মাথায় রয়েছে মুকুটের মতো দ্বৈত পালকের ঝুঁটি, যা রাগ বা সতর্ক অবস্থায় খাড়া হয়ে যায়। দৃষ্টিশক্তি মানুষের চেয়ে প্রায় আট গুণ বেশি। স্ত্রী পাখি পুরুষের চেয়ে অনেক বড় ও শক্তিশালী। ছয় ফুট ডানায় ভেসে বেড়ায় আর চোখে পড়লেই শিকার ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে। এরা একবারে ৫ কেজি ওজনের শিকার সহজেই তুলে নিয়ে যেতে পারে। বড় বড় বানর, টিকটিকি, পাখি ও ছোট হরিণ জাতীয় প্রাণী এদের আহার। দক্ষিণ মেক্সিকো এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় হার্পি ঈগল পাওয়া যায়।
এর পরেই আসে কিং পেঙ্গুইন বা রাজ পেঙ্গুইন। এক মিটার লম্বা, ওজন ১০-১৮ কেজি। ডিমে তা দেয় পুরুষ আর মা-বাবা দুজনেই ছানাকে যত্ন করে বড় করে। ছোটবেলায় ওদের বাদামি লোম, বড় হলে তা ঝরে গিয়ে কালো-সাদা-হলুদ রাজকীয় পোশাক পায়। এরা সাধারণত দক্ষিণ জর্জিয়া, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং অ্যান্টার্কটিকার উপকূলবর্তী দ্বীপগুলোয় বাস করে।
সবশেষে আসি মজার এক পাখিতে। দক্ষিণ আমেরিকার আকাশের রাজা অ্যান্ডিয়ান কনডোর। ডানার বিস্তার প্রায় সাড়ে ১০ ফুট। এরা সবচেয়ে বড় শিকারি পাখি। এরা তাপীয় বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে অনেক উঁচুতে ওঠে। কখনও পাঁচ হাজার মিটার পর্যন্ত। আন্দিজ পর্বত পার হয়ে যায় অনায়াসে। একবার ওড়ার সময় এরা প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাড়ি দেয়। মৃত প্রাণী খেয়ে বাঁচে আর একবারে ছয় কেজি খাবার খেয়ে ফেলতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিয়ান সভ্যতাগুলোর কাছে অ্যান্ডিয়ান কনডোর পবিত্র পাখি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com