সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে
বীমা খাতের নতুন অধ্যায়
ব্যাংকাস্যুরেন্স বাংলাদেশের বীমা খাতের এক নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে সামনের দিকে এগোচ্ছে উদ্যোগটি। এটি সফল হলে বীমা সেবার পরিধি বাড়বে, আর্থিক খাতে আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাংক ও বীমা—উভয় খাতই লাভবান হবে। তবে সঠিক তদারকি ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে না পারলে এর সুফল পুরোপুরি অর্জিত না-ও হতে পারে বলে মত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

বীমা দাবি নিষ্পত্তির সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে বীমা কম্পানির ওপর, ব্যাংক কেবল গ্রাহক ও কম্পানির মধ্যে সংযোগের মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।একসময় বীমা প্রতিনিধিদের (এজেন্ট) কাজ থাকবে না এমন আশঙ্কা বীমা কম্পানিগুলোর একাংশের কাছে অমূলক মনে হয়েছিল। কিন্তু আজ সেই আশঙ্কাই বাস্তব হয়ে উঠছে ব্যাংকাস্যুরেন্সের মাধ্যমে। ব্যাংকের মাধ্যমে বীমা বিক্রির এই নতুন ব্যবস্থায় বীমা এজেন্টদের ভূমিকা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকাস্যুরেন্স চালুর ফলে বীমা খাতের প্রসার ঘটবে।বর্তমানে দেশে বীমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম। ব্যাংকের বিশাল গ্রাহক ভিত্তি ব্যবহার করে বীমা সেবা পৌঁছে দেওয়া গেলে বীমা পলিসি বিক্রি বেড়ে যেতে পারে। ইউরোপের দেশগুলোতে মোট বীমা বিক্রির বড় অংশ ব্যাংকাস্যুরেন্সের মাধ্যমে হয়। যেমন—ভারতে ২০ শতাংশ এবং তুরস্কে ৮০ শতাংশ পলিসি ব্যাংকের মাধ্যমে বিক্রি হয়। বাংলাদেশেও এই প্রবণতা বীমা খাতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে।ব্যাংকের জন্যও এটি লাভজনক। বীমা বিক্রির কমিশন থেকে তারা বাড়তি আয় করতে পারবে, ফলে তাদের মুনাফা বাড়বে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে ব্যাংকাস্যুরেন্স সেবা চালুর জন্য কঠোর আর্থিক মানদণ্ড পূরণ করতে হবে; যেমন—তিন বছর ধরে ধারাবাহিক মুনাফা, খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে, পর্যাপ্ত মূলধন অনুপাত ও ভালো ক্রেডিট রেটিং। এসব শর্ত পূরণ করতে গিয়ে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটবে।
তবে ব্যাংকাস্যুরেন্স চালুর ফলে বীমা প্রতিনিধিদের (এজেন্ট) কাজ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ব্যাংকগুলো সরাসরি গ্রাহকের কাছে বীমা বিক্রি শুরু করলে এজেন্টদের মধ্যস্থতার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। ফলে অনেক প্রতিনিধি হয়তো পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হবেন।

এ ছাড়া গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাংক কর্মকর্তাদের বীমা পলিসি সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান না থাকলে গ্রাহক বিভ্রান্ত হতে পারেন। সিটি ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আশানুর রহমান বলেন, ‘গ্রাহকদের সঠিক পরামর্শ দিতে হলে ব্যাংকারদের বীমা সম্পর্কে গভীর ধারণা থাকা জরুরি। আমরা সেদিকেই কাজ করছি।’

বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে ব্যাংকাস্যুরেন্স তদারকির জন্য আলাদা শাখা খুলেছে, আর আইডিআরএ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ইউনিট গঠন করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, ব্যাংকাস্যুরেন্স বাংলাদেশের বীমা খাতকে গতিশীল করবে, গ্রাহকদের কাছে বীমা আরো সহজলভ্য হবে এবং ব্যাংকিং খাতেও নতুন আয়ের উৎস তৈরি হবে।

অন্যদিকে বীমা কম্পানিগুলোর জন্যও এটি একটি সুযোগ। তারা ব্যাংকের মাধ্যমে নিজেদের পণ্যের প্রসার ঘটাতে পারবে, যা বীমা বাজারে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে। তবে এর জন্য নীতিমালা, প্রশিক্ষণ ও তদারকি শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে এজেন্টদের ক্ষতি কম হয় এবং গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা পায়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com