ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সফলতা পাচ্ছে বীমা খাত। এর পাশাপাশি আর্থিক ও চিকিৎসা নিরাপত্তার বাস্তবতায় দরিদ্র দেশগুলোতেও এর চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যাংকাস্যুরেন্স সেবা এই খাতকে চালিকা শক্তির মতো এগিয়ে নিচ্ছে।বর্ধিত চাহিদা ও পরিবর্তিত ঝুঁকি : বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে (বয়সপ্রাপ্তদের সংখ্যা বাড়ছে), স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রতি সচেতনতা বাড়ছে এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন, সাইবার ঝুঁকি ইত্যাদি নতুন চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে।এতে মানুষ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বীমায় আগ্রহী হচ্ছে।ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন : বীমাকারীরা ডিজিটাল পলিসি, অনলাইনে দেওয়া, রিস্ক মডেলিং, ইনসুরটেক ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করছেন। এ ছাড়া প্রযুক্তিগত ইন্টিগ্রেশন যেমন ক্লাউড, ডেটা অ্যানালিটিকস ইত্যাদিতে বীমাকারীরা সক্রিয় হচ্ছেন, যা তাঁদের কার্যক্ষমতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়াতে সহায়ক।
বিস্তৃত বাজার ও উদীয়মান অর্থনীতি : উদীয়মান দেশগুলোতে বীমার সুযোগ এখন দ্রুত বাড়ছে।অর্থনৈতিকভাবে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী উভয়েই রিস্ক ম্যানেজমেন্ট চাহিদা অনুভব করছেন। ফলে দিন দিন বীমার প্রতি তাঁদের আগ্রহ বাড়ছে।মূল্য সংযোজন ও শেয়ারহোল্ডার রিটার্ন : গবেষণা দেখায়, যাঁরা স্পষ্ট কৌশল নিয়ে দ্রুত অ্যাডাপ্ট করেছেন, তাঁরা ভালো রিটার্ন পাচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি-অভিমুখী কৌশল, নতুন পণ্য (যেমন সাইবার বীমা, জলবায়ু ঝুঁকি বীমা), ডিজিটাল চ্যানেল বৃদ্ধি, গ্রাহককেন্দ্রিক মডেলই আগামী দিনে সফলতার চাবিকাঠি হবে।আগামী কয়েক বছর (২০২৫-২৯) বিশ্ববীমা বাজার ৬-৭% বা তারও বেশি হারে বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।ব্যাংকাস্যুরেন্স সেবায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে বলা হয় দ্রুত প্রবৃদ্ধিশীল অঞ্চল। এ অঞ্চলের দেশগুলোতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অগ্রযাত্রায় বীমা খাতও প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ব্যাংকের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাংকাস্যুরেন্সে পণ্য বিক্রি বাড়ছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে ব্যাংকাস্যুরেন্স সেবায় বৈশ্বিক বাজারের ৩৮ শতাংশই ছিল এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের।আর্থিক আকার দাঁড়ায় ৫৬৬ বিলিয়ন ডলার। যদিও বেশ কিছু উদীয়মান দেশে এখনো ব্যাংকের মাধ্যমে বীমা গ্রহণের হার কম। ফলে ওই দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধির অনেক ভালো সুযোগ রয়েছে। এই বাজারের ৩২ শতাংশ ইউরোপীয় দেশগুলোর দখলে রয়েছে।