একজন প্রকৃত মুমিনের মুখে কখনো অশালীন, অশ্রাব্য কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যপূর্ণ কথা মানায় না।তার মুখ সর্বদা যেন হয় সততা, নম্রতা ও শিষ্টাচারের প্রতিচ্ছবি। আবু দারদা (রা.) বা অন্য সাহাবাদের সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, মুমিন সেই ব্যক্তি নয়, যে অভদ্রভাবে কথা বলে, গালাগাল করে, অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে কিংবা নিন্দা-অপবাদে লিপ্ত থাকে।
(তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৭)
এর থেকে স্পষ্ট হয় যে ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং তা ঈমানেরও একটি পরীক্ষা। একজন মুমিনের জিহ্বা যদি অন্যের সম্মান রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে তার ঈমান পূর্ণতা পায় না। তাই তিনি এমন ভাষা, আচরণ ও উচ্চারণকে নিন্দা করেছেন, যা মানুষের অন্তরে কষ্ট দেয় এবং তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।তাবেঈ হাসান বসরি (রহ.) বলতেন, ‘কোনো ব্যক্তির আমানতদারি তখনই সঠিক হয়, যখন তার জিহ্বা সোজা থাকে। আর জিহ্বা তখনই সোজা হয়, যখন তার অন্তর সোজা হয়।’ (বাহজাতুল মজালিস : ২/৫৭৬)
বিশিষ্ট তাবেঈ হজরত ইউনুস ইবনে উবাইদ (রহ.) বলতেন—‘কোনো বান্দার মধ্যে যদি দুটি জিনিস সঠিক থাকে, তাহলে তার বাকি সব কিছুই ঠিক হয়ে যায়। সে দুটি হলো—তার নামাজ ও তার জিহ্বা।’
(সিয়ার আলামিন নুবালা : ৬/২৮৮)
নামাজের পর মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার জিহ্বা। আর এই মহান নিয়ামতের (জিহ্বার) প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দাবি হলো—মানুষ যেন নিজের কথাবার্তাকে ওপরে উল্লিখিত নির্দেশনার অধীন করে, নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখে এবং কথা বলার দায়িত্বকে একটি গম্ভীর কাজ হিসেবে গ্রহণ করে। সে যেন কথা বলার আগে তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক ফলাফল নিয়ে চিন্তা করে এবং জিহ্বার সঠিক ব্যবহার শিখে নেয়।
প্রত্যেক মুমিনের উচিত নিজের জিহ্বাকে সংযমের পথে পরিচালিত করা, কথাবার্তায় প্রজ্ঞা ও কল্যাণ বজায় রাখা।