১. সততা ও আমানতদারি—বাজারে আস্থা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি : সততা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক আস্থা সৃষ্টি করে।
১. সততা ও আমানতদারি—বাজারে আস্থা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি : সততা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক আস্থা সৃষ্টি করে।
৬. মজুদদারি বর্জন—বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা-জোগান রক্ষা করে : ইসলামী অর্থনীতিতে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যকে সম্মান করা হয়। কৃত্রিম সংকট তৈরি করা বা দাম বাড়ানোর জন্য মজুদদারি করা অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। নবী এটিকে মহামারি ও দারিদ্র্যের কারণ বলেছেন। অর্থাৎ এটি বাজারের স্থিতিশীলতা ধ্বংস করে। উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কেউ যদি মুসলমানদের থেকে নিজেদের খাদ্যশস্য আটকয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর মহামারি ও দরিদ্রতা চাপিয়ে দেয়।’ (ইবনু মাজাহ, হাদিস : ২১৫৫)
৭. হস্তগত হওয়ার আগে বিক্রয় না করা— বাজারে ঝুঁকি হ্রাস করে : যে ব্যক্তি নিজের দখলে না থাকা পণ্য বিক্রি করে, সে বাজারে অনিশ্চয়তা (uncertainty) ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ইসলামী নীতি অনুযায়ী মালিকানা ও দায় নিশ্চিত না করে বিক্রি করা বাজার ঝুঁকির (market risk) কারণ হয়। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি খাদ্যশস্য ক্রয় করলে সে যেন তা হস্তগত করার আগে বিক্রি না করে।’ (বুখারি, হাদিস : ২০২৯)
৮. অনিশ্চিত পণ্য বিক্রি বর্জন—বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা দেয় : ইসলামী বাজারব্যবস্থা অনিশ্চয়তামূলক লেনদেন নিষিদ্ধ করে। এটি বাজারে স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখে, যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) গবাদি পশুর গর্ভস্থ বাচ্চা প্রসবের আগে, পশুর স্তনের দুধ পরিমাপ না করে, পলাতক দাস, গনিমতের মাল বণ্টনের আগে, দান-খয়রাত হাতে আসার আগে এবং ডুবুরির বাজির (ডুব দিয়ে যা পাবে) ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। (ইবনু মাজাহ, হাদিস : ২১৯৬)
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।