মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

তিস্তায় আকস্মিক বন্যা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের উলিপুরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের শত শত বিঘা ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে কৃষকের হাজার হাজার টাকার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। পানি নেমে গেলেও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন, বিপাকে পড়েছেন তিস্তা পাড়ের মানুষজন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে মোট ৫০ হেক্টর রোপা আমন, ১৫ হেক্টর মাসকলাই, ৫ হেক্টর বাদাম ও ২ হেক্টর সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো অনেক জমিতে পানি থাকায় ফলনের সম্ভাবনা কমে গেছে।

গতকাল তিস্তা বেষ্টিত থেতরাই, গুনাইগাছ, দলদলিয়া ও বজরা ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে দেখা যায়, শত শত একর জমি পানির নিচে। নষ্ট হয়েছে আমন ধান, বাদাম ও নানা সবজির ক্ষেত। তিস্তার তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও চাষের জমি।

চর গোড়াইপিয়ার এলাকার কৃষক নুর ইসলাম বলেন, ৫০ হাজার টাকা খরচ করে দেড় একর জমিতে পেঁয়াজ, আলু, মুলা ও লালশাক চাষ করেছিলাম। দুদিনের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। ধার করে চাষাবাদ করেছিলাম—এখন কিভাবে ঋণ শোধ করব বুঝতে পারছি না। দলদলিয়া ইউনিয়নের আব্দুল করিম বলেন, ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ১ একর জমিতে বাদাম আর ৪০ শতকে আমন লাগিয়েছিলাম। এখন সব তলিয়ে গেছে। বন্যা আমাদের সব নিয়ে গেলো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন জানান, চরাঞ্চলের বহু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যেসব জমিতে ফসল নষ্ট হয়েছে, সেই কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সরকারিভাবে সহায়তা এলে তাদের দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি চলছে। সরকার থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে উজানে প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, বাঁধ ও মাছের খামার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার নিচে এবং কাউনিয়া পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে গত রোববার রাতে পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে উঠেছিল যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। তিস্তা তীরবর্তী পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার্তরা আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তার পাশে ও উঁচু স্থানে। স্থানীয় কৃষক আকরাম হোসেন বলেন, দুই বিঘা জমিতে আমন লাগিয়েছি, সব পানির নিচে। আর ধান পাওয়া যাবে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শায়খুল আরেফিন জানান, জেলায় অন্তত ৯৫০ হেক্টর রোপা আমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবজিরও অনেক খেত নষ্ট হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, পানি কমতে শুরু করেছে। দুই-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এদিকে ভারতের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে রংপুরের জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত সোমবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়। এতে নতুন করে নিস্ন অঞ্চল প্লাবিত হয় এবং বহু গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ডুবে গেছে মাছের খামার, আমন ধান ও শীতকালীন সবজির ক্ষেত।

নীলফামারীর ডিমলা, ডোমার, জলঢাকা, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার বহু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. শায়খুল আরিফিন বলেন, যদি পানি তিন থেকে চার দিন স্থায়ী হয়, কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। এছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। গত তিন দিনে কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার গ্রামে অন্তত ৫০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে দুই শতাধিক পরিবার নিরাপদ স্থানে সরে গেছে। তিস্তা তীরবর্তী তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের মানুষ প্রতি বছরই এমন ভাঙনের শিকার হন। স্থানীয়রা বলছেন, স্থায়ী বাঁধ ও ড্রেজিং প্রকল্প না থাকায় প্রতিবছর শত শত ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও এটি সাময়িক সমাধান। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া চরবাসীর দুঃখ দূর হবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস জানান, ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com