সড়ক দুর্ঘটনায় গাজীপুরের কালীগঞ্জে শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মাদারীপুর ও চুয়াডাঙ্গায় প্রাণ গেছে আরো দু’জনের।কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জে শহীদ ময়েজউদ্দিন সেতুর পশ্চিম পাশে বাইপাস সড়কের দেওপাড়া চত্বর এলাকায় ড্রাম ট্রাক-সিএসজি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সিএনজির তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল আনুুমানিক সোয়া ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যদর্শীরা জানায়, যাত্রীবাহী সিএনজি কালীগঞ্জ বাইপাস সড়কের দেওপাড়া চত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ড্রাম ট্রাক ডানে মোড় নেয়ার সময় সিএনজিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরেক জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত আবু তালেব (২৭) ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার মৃত গুক্কুরের ছেলে এবং মো: আলী উল্লাহ (৪০) নরসিংদী জেলার মনোহরদি উপজেলার সুকন্দি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।
আহতরা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলার হাফিজুর রহমান (৪০), তার স্ত্রী ছালমা বেগম (৩৫)। গাজীপুর হাসপাতালে নেয়ার পর আহত হাফিজুলের চার বছরের শিশু ছেলে মো: তামিম মারা যায়। তারা সবাই গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর থেকে সিএনজিযোগে নরসিংদী যাচ্ছিলেন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার জাবেদ কায়সার বলেন, আনুমানিক সকাল ৯টায় দু’জনকে মৃত এবং অপর তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহতদের গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ও তাদের মাথা, হাত ও বুকসহ শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো: রাসেল জানান, নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। একজনের লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অপর জনের পরিবারকে খবর পাঠানোর চেষ্টা চলছে। ড্রাম ট্রাকটি আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল চন্দ্রা পরিবহনের একটি বাস। পথে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি ৩১ যাত্রীসহ মহাসড়কের পাশে ডোবায় পড়ে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসেন। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়ে নিহত অবস্থায় নিলুফা ইয়াসমিন নিলা নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ ছাড়াও অনেকেই বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় লক্ষ্মীপুরের রামগাতি উপজেলার চর কালাখোপা গ্রামের জুয়েল (৩০), নোয়াখালীর আটকপালিয়া উপজেলার জাহাজমারা গ্রামের মিরাজ (৩০) ও একই জেলার সুবর্ণচরের চরহাসান গ্রামের মিলনকে (৪৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
মাদারীপুরের মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বাস খাদে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া একজনকে নিহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আহতরা সাধারণ জখম হওয়ায় বেশির ভাগই চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন এবং নিহত নারীর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ট্রেন দুর্ঘটনায় সোবদুল (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে বেনাপোল এক্সপ্রেসের ধাক্কায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সোবদুল দণি চাঁদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় ভ্যানচালক সোবদুল প্রায় সময়েই যেকোনো স্থানে হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়তেন। দুর্ঘটনার দিনও তিনি মা ও শিশু হাসপাতালের পেছনের রেললাইনের পাশে শুয়ে ছিলেন। এ সময় ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।দর্শনা জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, সোবদুল সারারাত জেগে থাকতেন, ফলে দিনে যেখানে-সেখানে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়তেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার দিনও তিনি রেললাইনের পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন।