মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা গ্রামবাসী

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে
‘বন্যার কারণে ২২ বার ঘর ভাঙন দিছি। এ বছর ভাঙলে কোনে যামু, কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। সারারাত ঘুম ধরে না, সবসময় ভয়ে আতঙ্কে থাকি এই বুঝি বাড়ি ভাইঙ্গা পরে নদীতে। ভয়ে খাইতে পারি না, আমাগো খোঁজ নিতে কেউ আসে না।’ কথাগুলো বলছিলেন ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কটিয়ারভিটা গ্রামের গোলাপি বেগম (৫৫)।
প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কটিয়ারভিটা, ভুষিরভিটা, রতনপুর, গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী, গলনা ও জিয়াডাঙ্গা গ্রামে বেশি ভাঙন দেখা
দিয়েছে। ভাঙনের ফলে নদীতে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর, গাছপালা ও আবাদি জমি। এ ছাড়াও ফুলছড়ি, ফজলুপুর ও এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
দেখা গেছে, উড়িয়া ইউনিয়নের কটিয়ারভিটা এলাকায় ভাঙনের গতি বেড়েই চলছে। বাড়িঘর, গাছ কেটে নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন নদী পাড়ের মানুষ। কেউবা আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন উঁচু বাঁধে। এলাকার ভাঙন রোধের কাজ শুরু না হওয়ায় আতঙ্কে কাটছে প্রতিটি মুহূর্ত। ভাঙনের শিকার লোকজনের অভিযোগ, এলাকায় ব্যাপকভাবে নদী ভাঙন দেখা দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বা স্থানীয় প্রশাসনের কোনো ব্যক্তি পরিদর্শনে আসেননি।
জিয়াডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে কথা হয় বিধবা আসমা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, নদী ভাঙতে ভাঙতে তার বসতবাড়ির আঙিনায় এসেছে। তার পরিবারে আর কোনো লোক নেই। ঘরটা সরানোর জন্য অনেকের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করলেও কেউ এগিয়ে আসছে না। সবাই তাদের নিজের ঘর সরাতেই ব্যস্ত। এ অবস্থায় আসমা বেগম তার ঘরটা রক্ষা করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো আব্দুল কাদের, নুর ইসলাম, ওমর আলী, আলী আকবরসহ অনেকে জানান, ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, ঘরবাড়ি সরানোর সময় পর্যন্ত পাওয়া যায় না। ভাঙনের শিকার অনেকেই ঘর তোলার জায়গা না পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছেন।
গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম সরকার বলেন, গত দুই বছরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কটকগাছা, গলনা, ভাজনডাঙ্গা ও জিয়াডাঙ্গা মৌজার মূল ভূখণ্ড নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আশ্রয়হীন হয়েছেন শত শত মানুষ।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় উপ-প্রকৌশলী এ টি এম রেজাউর রহমান জানান, উড়িয়ার কটিয়ারভিটা থেকে ভুষিরভিটা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ৬৫০ মিটার এলাকা ভাঙনরোধে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ওই এলাকায় ৬৫ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com