জামালপুরে শুরু হয়েছে দুইদিন ব্যাপী গ্রাম বাংলার ঐতিবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগীতা। শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে নৌকা বাইচ দেখতে ভিড় করে হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন পর ব্রহ্মপুত্রের বুকে ছলাৎ ছলাৎ শব্দে গর্জে উঠে বাংলার বাঘ, সোনার তরী ও হীরার তরীসহ ১৫টি নৌকার শতশত মাঝির বৈঠা। চমৎকার এ ক্ষণে শামিল হতে সকাল থেকেই ব্রহ্মপুত্র পাড়ে ভিড় করেন হাজার হাজার দর্শক।

অপসংস্কৃতি আর শহরের যান্ত্রিক কোলাহলের ভীড়ে দিন দিন হারাতে বসেছে বাঙালির প্রাণের উৎসব আর সংস্কৃতি। তবুও যেটুকু টিকে আছে, তাতেই খুশি সহজ সরল এই মানুষগুলো। পড়ন্ত বিকেলে চমৎকার এই নৌকা বাইচ তাদের নিয়ে গেছে এক রকম ঘোরের রাজ্যে।

নৌকা বাইচ উপলক্ষ্যে শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। ভাদ্রের তপ্ত দুপুর গড়ানোর আগেই জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছোট বড় নৌকা নিয়ে উৎসাহী দর্শকরা নদের দুই পাড়ে জড়ো হতে থাকেন।

জামালপুর জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার মোট ১৫টি প্রতিযোগী দল সুসজ্জিত নৌকা আর রঙ বেরঙের বাহারি পোশাক পড়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা চলার সময় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মাঝিদের ভাটিয়ালি গান আর পানিতে বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ আওয়াজে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

জামালপুর পৌর সভা ও জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সার্বিক সহযোগিতায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জামালপুর সমিতি, ঢাকা। পৌর এলাকার মধ্য ছনকান্দা থেকে ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় নদীতে অনুষ্ঠিত হয় এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।

মাহাত হাসান নামের একজন বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা নৌকা বাইচ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এই খেলাটি প্রতি বছর আয়োজন করা দরকার।
ষাটোর্ধ্ব হাসিবুর রহমান নামের একজন বলেন, ছোট সময় এই খেলার খুবই প্রচলন ছিল। এখন এই খেলা আর হয় না। তাই যেখানেই নৌকা বাইচ খেলা হয় সেখানেই দেখতে যাই। দেখে মনে শান্তি লাগে।

বিকেল ৩টার দিকে পৌর এলাকার ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন জামালপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোজাফ্ফর হোসেন সিআইপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জামালপুর সমিতি ঢাকার মহাসচিব অবসর প্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম ও জামালপুর পৌর মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানু। নক আউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার ৮টি নৌকার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে চুড়ান্ত প্রতিযোগিতা।