জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আজ রবিবার মধ্যরাতে ঢাকা ছাড়বেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রায় দুই সপ্তাহের এই সফরে সঙ্গী হচ্ছেন দেশের তিনটি রাজনৈতিক দলের চারজন নেতা।
সফরসঙ্গীরা হচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
সরকারপ্রধানের সঙ্গে বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদদের এই সফরকে সরলভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন দেশের অনেক রাজনীতিক।
তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এসেছেন, কিন্তু কোনো তথ্য নেই। আবার মহড়া হচ্ছে। এতে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই সফরে দলগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে কি না, তা দেখবার বিষয় আছে।’
সাইফুল হক বলেন, ‘নানান দলের মধ্য থেকে তিন দলকে বেছে নেওয়া সরকারের পক্ষপাতিত্ব করার বহিঃপ্রকাশ। বিএনপি, জামায়াত বড় দল। কিন্তু এনসিপি কোন মানদণ্ডে যাচ্ছে?’
দেশের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দাবি, ১৯৮০ সালের আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর সঙ্গে কয়েকজন রাজনীতিবিদকে নিয়েছিলেন। কিন্তু নিশ্চিতভাবে কোনো নামের তালিকা পাওয়া যায়নি।
এই সফরে বিশ্বের কাছে ড. ইউনূস জানান দিতে চান যে, দেশের সব রাজনৈতিক দল তাঁর পাশে আছেন, তিনি একা নন। একই সঙ্গে তিনি নিজের শক্তি দেখাবেন বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই ইতিবাচক দিক। যাঁদের নিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার ফলে প্রথমত, রাজনৈতিক ঐক্য প্রকাশ পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলো যে তাঁর সঙ্গে আছে, সেটা প্রকাশ করছেন। আর আগামী দিনে যাঁরা ক্ষমতায় আসবেন তাঁরাও তাঁর সঙ্গে আছেন, এটা বিশ্বকে দেখানো। তিনি বহির্বিশ্বকে এটা দেখাবেন, এটা তাঁর বৈধতাকে শক্তিশালী করবে।’
অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো দেশের মধ্যে সমাধান হতে হবে। তিনজন মিলে একমত হলে তো হবে না। বাকিদের একমত হতে হবে। ওইটা ওখানে (আমেরিকায়) হওয়ার কিছু নেই।’
তিনটি দলকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ‘তিন দলকে একসঙ্গে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থা থেকে বোঝাপড়ার মধ্যে নিয়ে আসার একটা বিষয় হতে পারে। কিন্তু ড. ইউনূস ওই ধরনের একজন মধ্যস্থতাকারী নন। এই সফরকে ড. ইউনূসের অবুঝ সারল্য মনে করি। তবে এখানে যাঁদের নিয়ে যাচ্ছেন, কম্বিনেশন ঠিক হয়নি। আরো দলের নেতা তো ছিল। তাঁদেরও সঙ্গে নেওয়া যেত।’
গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগদান করেছিলেন ড. ইউনূস। তখন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের তিনি সঙ্গে নেননি। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনের সঙ্গে সাইডলাইনে তিনি বৈঠক করেন। তবে ড. ইউনূসের সঙ্গে এবার সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হবে কি না, নিশ্চিত হওয়া যায়নি।