মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য : সামরিক জোট গঠনের তাগিদ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক আইনের কোনো পরোয়াই করছে না ইসরায়েল। গাজাকে একরকম ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার পর এখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে চোখ রাঙাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড দমনে তাদের করণীয় কেন ঠিক করতে পারছে না, আজ সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। এখন বাধ্য হয়ে তারা প্রতিরক্ষার বিষয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

সর্বশেষ সংকটের সূচনা হয়েছে কাতারে ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন ধরে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রশ্নে ইসরায়েল ও হামাসকে রাজি করানোর ক্ষেত্রে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছিল। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই আলোচকদের হত্যার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল কাতারে হামলা করে।

তার পরও আমরা দেখেছি, এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল ও কাতারে ঝটিকা সফর করলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইসরায়েল এ ধরনের হামলা আর করবে না, বিষয়টি যেন অনেকটা ছেলেমানুষির সঙ্গে তুলনা করলেন তিনি! তাঁর বক্তব্যই বলে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর যতই সখ্য থাকুক না কেন, অনিবার্যভাবে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ‘ইসরায়েল প্রথম নীতি’ প্রবলভাবে বিদ্যমান।

কাতারে এই ঘৃণ্য হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিদ্যমান ইসলামী সম্মেলন সংস্থা কিংবা আরব লীগকে মধ্যপ্রাচ্যের স্বার্থ সংরক্ষণে কোনো ধরনের কার্যকর পদ্ধতি বলে মনে করছে না। এই হামলা তাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি ইসলামী অন্য দেশগুলোকে ভাবাচ্ছে। আর তাই এই হামলার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্য এবং অপরাপর দেশগুলোর মধ্যকার এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মুসলিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের জঘন্য এই হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। এই বিশেষ সম্মেলনে ৬০টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। এখানেই কিছুটা দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। তারা কাতারের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। কাতারের জন্যও এখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেই সঙ্গে সৌদি আরবের জন্যও একই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর ১৩ থেকে ১৬ মে ডোনাল্ড ট্রাম্প চার দিনের জন্য মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন। এই মধ্যপ্রাচ্য সফরটি মার্কিন বাণিজ্যিক স্বার্থের ইতিহাসেই কেবল বিশেষ গুরুত্ব বহন করে না, বরং এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি মার্কিন স্বার্থের বলয় থেকে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে যে অনুমান করা হচ্ছিল, সে জায়গাটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের নতুন করে ভাবনার রসদ সরবরাহ হয়েছে ট্রাম্পের এই সফরের মধ্য দিয়ে। সৌদি আরবের সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১৪২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যচুক্তির আওতায় রয়েছে পাঁচটি খাত, যার মধ্যে রয়েছে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও মহাকাশ সক্ষমতা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা, স্থল নিরাপত্তা এবং স্থল বাহিনীর আধুনিকায়নসহ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। এ ছাড়া রয়েছে মার্কিন বাজারে সৌদি আরবের বিনিয়োগ। সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ট্রাম্পের এই সফরে, যা পরবর্তী সময়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। এ তো গেল সৌদি আরবের কথা। এর চেয়ে বড় চমক সৃষ্টি হয়েছে তার কাতার সফরে, যেখানে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কম্পানি থেকে ২১০টি বিমান কেনা বাবদ কাতার খরচ করবে ৯৬ বিলিয়ন ডলার। এই সফরের পর কাতারের আমিরের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বিলাসবহুল বোয়িং বিমান উপহার পাঠানো হয়, যা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

এ সবকিছু ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের কিংবা মুসলিম বিশ্বের কিছু রাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নতুন সামরিক জোটের জোর দাবি জানাতে থাকে, এখানে কাতার, সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা এবং নিজেদের স্বার্থের বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। আর এমনটি হলে যে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, এর কিছুটা প্রমাণ পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় কাতারে ইসরায়েলের হামলা এবং কিছুদিন আগে ইরানে ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে। বাস্তবিক অর্থে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি যেন মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com