প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর ১৩ থেকে ১৬ মে ডোনাল্ড ট্রাম্প চার দিনের জন্য মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন। এই মধ্যপ্রাচ্য সফরটি মার্কিন বাণিজ্যিক স্বার্থের ইতিহাসেই কেবল বিশেষ গুরুত্ব বহন করে না, বরং এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি মার্কিন স্বার্থের বলয় থেকে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে যে অনুমান করা হচ্ছিল, সে জায়গাটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের নতুন করে ভাবনার রসদ সরবরাহ হয়েছে ট্রাম্পের এই সফরের মধ্য দিয়ে। সৌদি আরবের সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১৪২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যচুক্তির আওতায় রয়েছে পাঁচটি খাত, যার মধ্যে রয়েছে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও মহাকাশ সক্ষমতা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা, স্থল নিরাপত্তা এবং স্থল বাহিনীর আধুনিকায়নসহ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। এ ছাড়া রয়েছে মার্কিন বাজারে সৌদি আরবের বিনিয়োগ। সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ট্রাম্পের এই সফরে, যা পরবর্তী সময়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। এ তো গেল সৌদি আরবের কথা। এর চেয়ে বড় চমক সৃষ্টি হয়েছে তার কাতার সফরে, যেখানে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কম্পানি থেকে ২১০টি বিমান কেনা বাবদ কাতার খরচ করবে ৯৬ বিলিয়ন ডলার। এই সফরের পর কাতারের আমিরের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বিলাসবহুল বোয়িং বিমান উপহার পাঠানো হয়, যা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এ সবকিছু ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের কিংবা মুসলিম বিশ্বের কিছু রাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নতুন সামরিক জোটের জোর দাবি জানাতে থাকে, এখানে কাতার, সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা এবং নিজেদের স্বার্থের বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। আর এমনটি হলে যে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, এর কিছুটা প্রমাণ পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় কাতারে ইসরায়েলের হামলা এবং কিছুদিন আগে ইরানে ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে। বাস্তবিক অর্থে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি যেন মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে।