মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে যেভাবে বিএনপির রূপান্তর হচ্ছে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

ট্রানজিশন এবং ট্রান্সফরমেশনের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ট্রানজিশনের লক্ষ্য সাধারণত সাময়িক সংকট সমাধানে সীমাবদ্ধ থাকে, সময়কাল স্বল্প হয় এবং ফোকাস থাকে সরকার বা শাসক পরিবর্তনের ওপর। ট্রানজিশনের প্রভাব সীমিত এবং পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল; নাগরিকদের ভূমিকাও তেমন সক্রিয় থাকে না। অন্যদিকে, ট্রান্সফরমেশন রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি ও নাগরিক অধিকারকে কেন্দ্র করে কাঠামোগত ও টেকসই পরিবর্তন আনে। ট্রান্সফরমেশনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী এবং নাগরিকরা সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, ‘ট্রানজিশন পেরিয়ে ট্রান্সফরমেশন’ মানে হলো কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা, যা জনগণকে কেন্দ্র করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র নিশ্চিত করে। এটি এক ধরনের দার্শনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার- যেখানে রাষ্ট্র কেবল শাসকের নয়, বরং জনগণের এবং জনগণ সক্রিয় অংশীদার হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়। প্রখ্যাত আইন ও রাজনৈতিক দার্শনিক  হান্স কেলসেনের মতে, কোনো পরিবর্তন শুধু শীর্ষ নেতা বা সরকারের পরিবর্তন দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকলে তা অস্থায়ী থাকে। প্রকৃত রূপান্তর বা ট্রান্সফরমেশন তখনই সম্ভব, যখন কাঠামোগত আইন, সংবিধান ও প্রতিষ্ঠানই নাগরিকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুনর্গঠন করা হয়। অর্থাৎ, ট্রানজিশন হলো অস্থায়ী প্রক্রিয়া, কিন্তু ট্রান্সফরমেশন হলো ন্যায় ও স্থায়ীত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্র নির্মাণ। বাংলাদেশের রাজনীতি কখনোই সরলরেখার চলেনি। অনেকটা উথালপাথাল নদীর মতো- কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল, আবার কখনো ভাঙনমুখর। স্বাধীনতার পর নানা সরকার এসেছে-গিয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক রূপান্তর আজও পূর্ণতা পায়নি। বারবার ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও শাসন ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সরকারের সময় কিছুটা উদ্যোগ দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে শাসকরা মূলত ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণেই মনোনিবেশ করেছেন। ফলে সেই শূন্যতার ভেতর জন্ম নিয়েছে নতুন গণআকাক্সক্ষা- যা কেবল সরকার বদলের নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোর পুনর্গঠনের দাবি তুলছে। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বিএনপি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করেছে। তারা কেবল ট্রানজিশনাল দল হিসেবে নয়, বরং একটি ট্রান্সফরমেটিভ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

বিএনপির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে তারা সংকটকালীন ট্রানজিশনাল ভূমিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৮০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিক শাসনের অবসান। ১৯৯১ সালে তারা সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তী সময়ে অ্যাজেন্ডা দাঁড়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটি আন্দোলনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু তা কাঠামোগত রূপান্তর ঘটায়নি। ফলে সরকার বদলালেও রাজনৈতিক আকাক্সক্ষা অনুযায়ী আস্থাহীনতা দূর হয়নি; ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও দুর্নীতি থেকে গেছে বহাল তবিয়তে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর রাজনীতিতে এক নতুন জন-আকাক্সক্ষা ও অভিপ্রায় জন্ম নিয়েছে। এই আন্দোলনে কেবল বিএনপির নেতাকর্মী নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক, বিভিন্ন পেশার মানুষ, প্রবাসী ও তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। মূল দাবি ছিল শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল বদল। বহু বছর ধরে দলীয়কৃত বিচার বিভাগ, অবিশ^াস্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া, ব্যাপক দুর্নীতি, অর্থনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রভাব, তরুণদের ভবিষ্যৎহীনতা- সবকিছু মিলিয়ে জনগণ উপলব্ধি করেছে যে, সমস্যার শিকড় রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতরেই। এ প্রেক্ষাপট বিএনপিকেও বাধ্য করেছে নতুন অবস্থান নিতে- যা কেবল নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কাঠামোগত রূপান্তরের দিকে পরিচালিত করে। যদিও বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর আগেই রাষ্ট্র ও রাজনীতি পুনর্গঠনে ট্রান্সফরমেশনের রূপরেখা দেয়, যা গণঅভ্যুত্থানের পরে বাস্তবতায় প্রতিফলিত হয়।শুধু বর্তমানেই নয়, গত একদশক ধরে বিএনপির ট্রান্সফরমেটিভ রাজনীতি প্রতিফলিত হচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে। তিনি গণতন্ত্রকে কেবল ভোটের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন না; বরং এটি জনগণের মর্যাদা, অংশগ্রহণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার বলে মনে করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে- রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার খেলা নয়, বরং মানুষের জীবনকে স্পর্শ করা, তাদের স্বপ্ন পূরণ করা ও বৈষম্য দূর করার সংগ্রাম। নির্বাচনী সংস্কারের পাশাপাশি তার দৃষ্টি নিবদ্ধ রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি, স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার রক্ষা এবং নারী, যুবক, তরুণ ও সংখ্যালঘুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দিকে। আজকের বিএনপি তাই কেবল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা সামনে এনেছে একটি ট্রান্সফরমেটিভ রূপরেখা। যেমন, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন করা। ঢাকাকেন্দ্রিক ক্ষমতা ভেঙে স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতায়ন করা। নারী, সংখ্যালঘু, আদিবাসী, দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। রাজপথে যারা রক্ত দিয়েছে, তাদের কণ্ঠস্বর সংসদেও প্রতিফলিত হওয়া। পরিবারতন্ত্রভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বের হয়ে ন্যায্য বণ্টন ও টেকসই উন্নয়নমুখী অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি গঠন।

বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র নির্মাণের একটি রূপরেখা স্থাপন করেছে। এখানে শিক্ষা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, নারী ও সংখ্যালঘু অধিকার, পরিবেশ ও স্থানীয় সম্পদের ব্যবহারসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি ও ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের অংশীদার হবে, আর কেউই বঞ্চিত থাকবে না। এটি কেবল ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস নয়, বরং সামাজিক আস্থা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে টেকসই রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি।অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রদর্শনের মূল ভিত্তি হলো- রাষ্ট্র কেবল কোনো দলের নয়, বরং সবার। মুসলিম-হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান, শহর-গ্রাম, ধনী-গরিব, সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। আইনের শাসন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সবার জন্য। বিএনপির এই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি শুধু আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়; এটি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্পর্শ ফেলতে চায়। রাজনীতি হবে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সংলাপমুখী ও মানবিক সংযোগভিত্তিক। গণতন্ত্র হবে প্রতিটি নাগরিককে রাষ্ট্র কাঠামোর অংশীদার করার প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের সমাজ বহুমাত্রিক বৈচিত্র্যে সৌন্দর্যময়। ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত, শ্রেণিভিত্তিক ও রাজনৈতিক বিভাজন বিদ্যমান। এই বৈচিত্র্য যদি সঠিকভাবে সমন্বিত হয় তবে সমাজ সমৃদ্ধ হয়; না হলে সহিংসতা ও বিদ্বেষ জন্ম নেয়। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্ভুক্তির নীতি অপরিহার্য। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলে এমন একটি কাঠামো যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বঞ্চিত হয় না। বরং প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ, সিদ্ধান্তগ্রহণ ও উন্নয়নের সমান অংশীদার হয়।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারাবাহিকতা থেকে শিক্ষাগ্রহণ এবং তারেক রহমানের আধুনিক অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শন মিলিয়ে বিএনপি আজ একটি ট্রান্সফরমেটিভ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। তারা কেবল সরকার পরিবর্তন করছে না; রাষ্ট্র কাঠামো, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সমতা ও সাংস্কৃতিক ঐক্য পুনঃনির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ। তরুণ নেতৃত্বকে অংশীদার করে, সমাজের সব শ্রেণি ও সম্প্রদায়কে রাজনীতিতে যুক্ত করে তারা একটি সৃজনশীল, গণমুখী ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নির্মাণে এগোচ্ছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু ভূখ-গত স্বাধীনতার জন্য ছিল না; এটি ছিল সাম্য, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম। স্বাধীনতার পর শহীদ জিয়া ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। আজ তারেক রহমান সেই ধারাবাহিকতাকে আধুনিক রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের প্রেক্ষাপটে রূপান্তর করছেন। তার নেতৃত্বে প্রণীত ৩১ দফা কর্মসূচি একটি অংশগ্রহণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ। এখানে শিক্ষা চাহিদাভিত্তিক ও উদ্ভাবনী করা, মাতৃভাষায় শিক্ষার অগ্রাধিকার, গবেষণায় গুরুত্ব, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রম, কৃষি ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে। যুবকদের কর্মসংস্থান, বেকার ভাতা, নেতৃত্ব ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় নদী-খাল পুনঃখনন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার, নারী ও সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করাই এই দর্শনের মূল ভিত্তি।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সকল নাগরিকের অধিকার, মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে অন্তর্ভুক্তি, ন্যায়ের বণ্টন ও সম্প্রীতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের অংশগ্রহণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, আইন ও ন্যায়ের শাসন এবং জবাবদিহি। অন্তর্ভুক্তি গণতন্ত্রের প্রাণ, বৈষম্যহীনতা গণতন্ত্রের ভিত্তি, আর সম্প্রীতি গণতন্ত্রের শক্তি। এই তিনটি উপাদান কার্যকর হলে গণতন্ত্র জনগণের কাছে জীবন্ত ও কার্যকর হয়ে ওঠে। সকলকে সমাজের মূলস্রোতে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা- তারেক রহমানের দর্শন ও রাজনীতি। তার দর্শন, নীতি ও পরিকল্পনা দেখায়, কীভাবে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমানাধিকার, সুযোগ এবং মর্যাদা দেওয়া যায়। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি সমাজে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, মানুষের কল্যাণ এবং দেশের স্থিতিশীল উন্নয়নের মৌলিক ভিত্তি গড়ে তোলে।
অতএব, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ট্রানজিশন পেরিয়ে ট্রান্সফরমেশন- জনগণকে ক্ষমতার কেন্দ্রে স্থাপন, ন্যায়, সুশাসন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে স্থায়ী ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনই এ যাত্রার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন, ৩১ দফা কর্মসূচি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক- ধর্ম, জাতি বা শ্রেণি নির্বিশেষে নিজেকে মর্যাদাপূর্ণ অংশীদার হিসেবে অনুভব করতে পারবে। এটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের শেকড় প্রতিষ্ঠা। জনগণ ইতোমধ্যেই বলেছে- শুধু সরকার নয়, রাষ্ট্র-কাঠামোর বদল চাই। এখন সময় এসেছে সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার। এই যাত্রা কেবল বিএনপির নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের যাত্রা, যা রাজনৈতিক ট্রানজিশন থেকে ট্রান্সফরমেশন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com