মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ময়মনসিংহে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

এক-দেড় শ বছর আগে নিরাপদ সুপেয় পানি পাওয়া আজকের মতো এতটা সহজ ছিল না। তখন নিরাপদ বা অনিরাপদ যা-ই হোক না কেন, পুকুর, ইঁদারা বা নদ-নদীর পানিই ছিল খাওয়ার পানি। সেই কঠিন সময়ে, ১৩২ বছর আগে ময়মনসিংহ শহরে ছিল নিরাপদ পানির ব্যবস্থা।

তখন ১৮৮৬ সাল।অর্থ সহায়তা দিয়ে মূল উদ্যোগটি নেন মুক্তাগাছার জমিদার সূর্যকান্ত। স্ত্রী বিয়োগে বিমর্ষ এই জমিদার অর্ধাঙ্গিনীর স্মৃতি ধরে রাখতে মানবসেবায় নতুন কিছু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ময়মনসিংহ শহরবাসীর জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থার মাধ্যমে জমিদারের সে ইচ্ছা পূরণ হয়। সেই উদ্যোগ বা ব্যবস্থার নাম ‘রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কাস’।

 

ময়মনসিংহে ১৩২ বছর আগের সেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থাময়মনসিংহের ইতিহাসসংশ্লিষ্ট বইয়ের তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৮৮৬ সালে রাজা সূর্যকান্ত বাহাদুর তাঁর প্রয়াত রানি রাজ রাজেশ্বরী দেবীর স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ জন্য কোনো জনসেবামূলক কাজে সরকারকে ৫০ হাজার টাকা  দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ টাকা কোন কাজে ব্যয় করা হবে, এ নিয়ে ওই সময় শহরবাসী নানা মত দিল। কেউ বলল, শহরে একটি আর্ট বা টেকনিক্যাল স্কুল হোক; আবার কেউ বলল, রাজপথে আলোর ব্যবস্থা হোক।

কিন্তু জলকলের খরচ নিয়ে আবার মতবিরোধ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন ম্যাজিস্ট্রেট রমেশচন্দ্র দত্ত। ১৮৮৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের সভায় জলকলের জন্য ৩০ হাজার টাকা সাহায্য মঞ্জুর করেন। সূর্যকান্তের কাছ থেকে আরো টাকা মেলে।

এদিকে চেয়ারম্যান চন্দ্রকান্ত ঘোষ পরলোক গমন করলে শ্যামাচরণ রায় মিউনিসিপালিটির চেয়ারমান হন। তখন জলকল স্থাপনের বিষয়টি আরো গতি পায়। কিন্তু আরো ১২ হাজার টাকা দরকার। তাহলে জলকলটি সুন্দর হয়। চেয়ারম্যান শ্যামাচরণ পুনরায় রাজা বাহাদুরের কাছে এ টাকা চাইলেন। দানশীল রাজা সূর্যকান্ত সব মিলিয়ে দিলেন এক লাখ ১২ হাজার টাকা। ১৮৯৩ সালের অক্টোবর মাসে রাজ রাজেশ্বরী জলকল স্থাপিত হয়ে গেল।

জলকলটি স্থাপিত হলো ব্রহ্মপূত্র নদের পারে। নদ থেকে পানি এনে একাধিক জলাধারে রেখে পরিশোধন করে তা পরে শহরে সরবরাহ হতো। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রায় ৮০ বছর এ পদ্ধতি সক্রিয় ছিল। এখানে একটি লোহার পানির ট্যাংকিও নির্মাণ করা হয়। ট্যাংকির খুঁটিতে এর নির্মাণের সংশয় লেখা আছে ১৯৩৭ সাল। কলকাতার একটি কম্পানির নামও এখানে আছে। শহরের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে তখন কল ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে সেই কলে পানি আসত। শহরবাসী সেই পানি সংগ্রহ করতেন।

ওই সময় এটি ছিল ঐতিহাসিক ঘটনা। স্বাধীনতার সময়কাল পর্যন্ত এ স্থানটি থেকে শহরে পানি সরবরাহ করা হতো। পরবর্তী সময়ে ভিন্ন প্রকল্পের আওতায় শহরে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরো প্রসারিত হয়। ময়মনসিংহও ছোট শহর থেকে ধীরে ধীরে বড় শহরে পরিণত হয়। আর এখন তো মহানগর।

কার্যকারিতা হারালেও ওই স্থানটি এখনো নগরবাসীর কাছে দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে পৌরসভা মার্কেট ভবনের পেছনে কিছু স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে আছে।

ময়মনসিংহের প্রবীণ নাগরিক অধ্যাপক বিমল কান্তি বলেন, তিনি ১৯৬১ সালের দিকে যখন কলেজে পড়তেন, তখন এ কলটি সচল ছিল। ব্রহ্মপূত্র নদ থেকে পানি টেনে আনার দৃশ্য তিনি দেখেছেন। এরপর আরো কয়েক বছর এটি সচল ছিল। এরপর নগরে পানি সরবরাহের জন্য আরো নতুন নতুন ব্যবস্থা আসে।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজিদ বলেন, এ স্থাপনা সম্পর্কে তিনি নিজেও অবহিত। এটি সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ এলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com