সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বাবুই পাখির নতুন আশ্রয়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

গ্রামের তালগাছঘেরা ধানক্ষেত—বাবুই পাখির চিরচেনা ঠিকানা। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডে সেই আবাস ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গ্রামগঞ্জেও এখন খুব একটা দেখা মেলে না বাবুই পাখির। সম্প্রতি ঘুরতে গিয়ে গবেষক শরীফ তানভীর আহম্মেদ দেখেছেন, সুন্দরবনে ঠাঁই নিয়েছে বাবুই পাখির দল

পশুর নদ ধরে হিরণ পয়েন্টের উদ্দেশে আমাদের যাত্রা শুরু চরপুটিয়া থেকে। সুন্দরবনে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াতে জোয়ার-ভাটার বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষ করে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য। পথিমধ্যে মাছ বিশেষজ্ঞ আতীক জানালেন, কাছেই হলদেখালী নামের একটি খাল রয়েছে, যা বন্যপ্রাণী ও মাছের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।আমরা খালে প্রবেশ করতেই খয়রাপাখ বড় একটি মাছরাঙা উড়ে গেল ডাকতে ডাকতে। তখন পূর্ণ জোয়ার। তাই তীরবর্তী এলাকায় পাখি ও সরীসৃপ ছাড়া অন্য প্রাণীর দেখা মেলা কঠিন। খালের কেওড়াগাছগুলো ফলে ভরা, যা হরিণের প্রিয় খাদ্য, এমনকি কিছু মাছও এই ফল খায়।

স্ত্রী পাখি তুলনামূলক ধূসর রঙের। সবুজাভ-বাদামি পালক ও হালকা ডোরা দাগযুক্ত। বাসা তৈরির দায়িত্ব মূলত পুরুষের—তালগাছ, খেজুরগাছ ও হেতালের পাতা দিয়ে ঝুলন্ত কলসাকৃতি বাসা তৈরি করে তারা। একসময় গ্রামের ধানক্ষেতসংলগ্ন তাল ও খেজুর গাছ ছিল বাবুইয়ের প্রধান আবাসস্থল। তারা সাধারণত তালগাছে বাসা বানাত।
খেজুরপাতা ছিল বাসার তৈরির প্রধান উপকরণ। ধানক্ষেতের কাছাকাছি এসব গাছ পোকামাকড় ও ঘাসবীজের প্রাচুর্য নিশ্চিত ছিল। কিন্তু দিন দিন গ্রামে ধানক্ষেতের ধারেকাছের তালগাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। নগরায়ণের প্রভাব ফেলছে গ্রামীণ এলাকায় মানুষের নানা কর্মকাণ্ড—গাছ কেটে ফেলা, কৃষিজমির 

বাবুই পাখির নতুন আশ্রয়

রূপান্তর, রাস্তা ও স্থাপনা নির্মাণ। এর ফলে বাবুই পাখির প্রজননক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। তারা বাধ্য হচ্ছে বিকল্প আবাস খুঁজতে। হলদেখালী খালের গেওয়া, কেওড়া ও হেতাল গাছ, আশপাশের ধানসি (Porteresia coarctata) ঘাস বাবুইয়ের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

হিরণ পয়েন্টে পৌঁছতে কয়েক ঘণ্টা লেগে গেল। সেখানে দেখলাম, পাইলট রেস্টহাউসের চারপাশে বিস্তীর্ণ ঘাসভূমি, তাল ও খেজুর গাছ। এখানেও বাবুই বাসা বেঁধেছে। স্থানীয় বন বিভাগের কর্মীদের মতে, তারা এখানেও তাল ও খেজুর পাতা ব্যবহার করছে। আশপাশের ধানসি ঘাস তাদের খাবারের জোগান দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত সুন্দরবনের কোকিলমনি, আকরাম পয়েন্ট ও হিরণ পয়েন্টে এদের দেখা পেয়েছি। বাবুই পাখি ঘাসবীজ ছড়িয়ে ও পোকামাকড় খেয়ে কৃষি ও বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু গ্রামীণ পরিবেশের পরিবর্তন ও তালগাছ হারানোর কারণে তারা এখন ধীরে ধীরে ভিন্ন আবাসস্থলে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে এবং নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com