গ্রামের তালগাছঘেরা ধানক্ষেত—বাবুই পাখির চিরচেনা ঠিকানা। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডে সেই আবাস ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গ্রামগঞ্জেও এখন খুব একটা দেখা মেলে না বাবুই পাখির। সম্প্রতি ঘুরতে গিয়ে গবেষক শরীফ তানভীর আহম্মেদ দেখেছেন, সুন্দরবনে ঠাঁই নিয়েছে বাবুই পাখির দল

রূপান্তর, রাস্তা ও স্থাপনা নির্মাণ। এর ফলে বাবুই পাখির প্রজননক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। তারা বাধ্য হচ্ছে বিকল্প আবাস খুঁজতে। হলদেখালী খালের গেওয়া, কেওড়া ও হেতাল গাছ, আশপাশের ধানসি (Porteresia coarctata) ঘাস বাবুইয়ের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
হিরণ পয়েন্টে পৌঁছতে কয়েক ঘণ্টা লেগে গেল। সেখানে দেখলাম, পাইলট রেস্টহাউসের চারপাশে বিস্তীর্ণ ঘাসভূমি, তাল ও খেজুর গাছ। এখানেও বাবুই বাসা বেঁধেছে। স্থানীয় বন বিভাগের কর্মীদের মতে, তারা এখানেও তাল ও খেজুর পাতা ব্যবহার করছে। আশপাশের ধানসি ঘাস তাদের খাবারের জোগান দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত সুন্দরবনের কোকিলমনি, আকরাম পয়েন্ট ও হিরণ পয়েন্টে এদের দেখা পেয়েছি। বাবুই পাখি ঘাসবীজ ছড়িয়ে ও পোকামাকড় খেয়ে কৃষি ও বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু গ্রামীণ পরিবেশের পরিবর্তন ও তালগাছ হারানোর কারণে তারা এখন ধীরে ধীরে ভিন্ন আবাসস্থলে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে এবং নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।