সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

যে আলোর পরশে আলোকিত পৃথিবী

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে
রবিউল আউয়াল মাস। প্রত্যেক মুমিনের জন্য এটি আনন্দ ও ভালোবাসার মাস। কারণ এ মাসেই অন্ধকারাচ্ছন্ন গোটা পৃথিবী আলোকিত করে পৃথিবীতে আসেন বিশ্বনবী প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.)।

তাঁর আগমনের আগে গোটা পৃথিবী অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল।

যদিও তারা এর আগে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে ছিল।’(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৬৪)

তিনি ছিলেন এক আলোর প্রদীপ, যে প্রদীপের আলোয় চারদিক থেকে অন্ধকার দূর হয়ে যায়। ইবনে সাআদের বর্ণনায় এসেছে, মা আমেনা বলেছেন, যখন তাঁর পুত্র মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন, তখন তাঁর দেহ থেকে এমন একটি নুর বের হলো, সেই নুরের দ্বারা শাম অঞ্চলের দুটি রাজকীয় প্রাসাদ উজ্জ্বল হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!

শিশু অবস্থা থেকেই তিনি আলো ছড়াতে থাকেন, যে আলোর আভা পেয়েছিলেন মহীয়সী নারী তাঁর দুধ মাতা হালিমা সাদিয়া (রা.)।আরবদের শহরের নাগরিকদের রীতি ছিল, তারা তাদের শিশুদের শহরের দূষিত পরিবেশ থেকে ভালো রাখার জন্য দুগ্ধ পান করাতে গ্রামের বেদুইন নারীদের কাছে পাঠাতেন।

যখন হালিমা বিনতে জুয়াইব তাঁর ঘরে নেওয়ার জন্য শিশু মুহাম্মদ (সা.)-কে বেছে নিলেন, তখন তিনি এমন আশ্চর্য ঘটনার সম্মুখীন হলেন—

সিরাতে ইবনে ইসহাকের বর্ণনা মতে, মা হালিমা বলেন, আমরা মক্কার শিশুদের আনতে সাদ গোত্রের নারীদের সঙ্গে বের হলাম। সেটা ছিল কঠিন দুর্ভিক্ষের বছর। চারদিকে চলছিল অভাব-অনটন। আমি মাদি দুর্বল একটি গাধার পিঠে সওয়ার ছিলাম, আমাদের কাছে একটি উটনিও ছিল, কিন্তু তা এক ফোঁটা দুধও দিত না।

আমাদের ছোট্ট শিশুরা ছটফট করত, রাতে ঘুমাতে পারতাম না। চারদিকে ভয়ংকর অভাব। বৃষ্টি ও একটু স্বাচ্ছন্দ্যের আশায় আমরা গভীর অপেক্ষায় থাকতাম। আমরা যখন মক্কায় পৌঁছলাম, আমাদের কাফেলার সব নারীকে রাসুলকে গ্রহণ করার জন্য পেশ করা হলো, কিন্তু এতিম হওয়ায় সবাই তাঁকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। কেননা সবাই সন্তানের পরিবার থেকে ভালো পারিশ্রমিকের আশা করত। একজন বিধবা মা কী আর সেই আশা পূরণ করতে পারবে? তাই শিশু মুহাম্মদকে নিতে কেউ রাজি হয়নি। এদিকে আমি কাউকে না পেয়ে স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে শিশু মুহাম্মদকে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলাম, যেন খালি হাতে ফিরে না যেতে হয়।হালিমা বলেন, এবার শুরু হলো আলোর জ্যোতি। এ শিশুকে গ্রহণ করার পর থেকে আমি আলোকিত হয়ে গেলাম। আমাদের দুগ্ধপোষ্য শিশুদের আর না খেয়ে থাকতে হলো না, এদিকে আমার স্বামী উটনী দোহন করতে গিয়ে লক্ষ করলেন, তার ওলানে দুধ পরিপূর্ণ, তিনি এত দুধ দোহন করলেন আমরা তৃপ্তি সহকারে পান করলাম, আরামে রাত পার করলাম।

সকালে স্বামী উঠে বলেন, খোদার কসম!  হালিমা তুমি একজন বরকতময় শিশু গ্রহণ করেছ!

তারপর হালিমা বলেন, আমি দুর্বল গাধার পিঠে রওনা হলাম। শিশুটি আমার কোলে ছিল, গাধা এত দ্রুত পথ চলল যে সবার আগে বাড়িতে পৌঁছে গেল। যখন বাড়িতে এলাম, গ্রামে দুর্ভিক্ষ চলছিল, জমিতে মরা ঘাস ছিল, গাছপালার পাতা ঝরে পড়ছিল, বকরিগুলো না খেয়ে শুকনো ছিল। কিন্তু এ শিশুটিকে আনার পর থেকে জমিতে সবুজ ঘাসের সমারোহ হলো, ফলেফুলে আমাদের বাড়ির আঙিনা ভরে গেল, আমাদের বাড়ির বকরিগুলো চারণভূমিতে ভরা পেট নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসত, অথচ তখন পাশের গ্রামে দুর্ভিক্ষ চলছিল। আসলে সবই ছিল শিশু মুহাম্মদের আলোকিত পরশের বরকত!

এভাবে মা হালিমার ঘর থেকে আলো বিতরণ শুরু করলেন তিনি। তারপর গোটা আরব থেকে শুরু করে সারা পৃথিবী আজ তাঁর আলোয় আলোকিত।

(ইবনে হিশাম প্রথম খণ্ড : ১৬২-১৬৪)

লেখক : ইমাম ও খতিব, বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, ঢাকা

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com