গেল রবি মৌসুমে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলায় পেঁয়াজ ও আলুর আবাদ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। তবে দর পতনে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাধারণ ভোক্তাগণ অবশ্য গত কয়েকমাস ধরে কয়েকগুণ বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হচ্ছে। ভরা মৌসুমে কৃষকরা মাঠ থেকে ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রী করলেও এখন তা ভোক্তাদের ৭৫ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। কৃষকের পেঁয়াজ আড়াতদার ও মজুদদারদের গুদামবন্দি হবার পরে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেই ৩০ টাকার পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রী হবার পরে গত পনের দিন যাবত তা ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রী হচ্ছে।
নিকট অতীতেও বরিশালসহ সারাদেশে পেঁয়াজ আবাদ ছিল সীমিত। ফলে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমাদানী ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। সম্প্রতিককালে সারা দেশের মতো দক্ষিণাঞ্চলেও পেঁয়াজ আবাদ বেড়েছে বহুগুণ। বিগত রবি মৌসুমে দেশে ৪.৬৭ লাখ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরিতে ৫.২৪ লাখ হেক্টরে আলুর আবাদ হয়েছিল। ফলে ১ কোটি ১৩ ৮৭ হাজার টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরিতে বাস্তবে ১ কোটি ২৯ লাখ ২৮ হাজার টন উৎপাদন হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে। অপরদিকে ২ লাখ ৫৯ হাজার হেক্টরে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্য নির্ধারিত থাকলেও আমাদের কৃষিযোদ্ধাগণ গত রবি মৌসুমে ২ লাখ ৮০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে এ রবি কৃষিপণ্য আবাদ করে। ডিএই’র মতে, গড় ফলন ছিল ১৪.৯৬ টন। ফলে বিগত রবি মৌসুমে দেশে ৩৮ লাখ ২১ হাজার টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৪২ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে বলে হিসাব করেছে ডিএই।ফলে দেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে চাহিদার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও কৃষকের কাছ থেকে কম দামে কিনে মজুদদাররা এখন তা কয়কগুণ বেশি দামে বিক্রী করছে। অথচ এ দুটি কৃষিপণ্য বিক্রী করে এবার কৃষকরা লাভের মুখ দেখা দূরের কথা, বিনিয়োগকৃত অর্থই তুলে আনতে পারেননি। আগের বছর যেখানে মাঠ পর্যায়ে পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়ও বিক্রী হয়েছে, সেখানে মৌসুমের শেষভাগে এসে কৃষিযোদ্ধাগণ তা ১৫-২০ টাকায়ও বিক্রী করতে বাধ্য হয়েছে। আগের বছর মাঠ পর্যায়ে আলু ২০ টাকায় বিক্রী হলেও এবারে ১০ টাকা কেজির বেশি বিক্রী করতে পারেনি।
আলুর উদ্বৃত্ত উৎপাদনকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ আবাদে যথাযথ প্রণোদনা প্রদানসহ সঠিক দাম নিশ্চিত করতে পারলে এর উৎপাদনে খুব শীঘ্রই দেশ সয়ম্ভরতা অর্জনে সক্ষম হবে বলেন মনে করছেন কৃষিবিদগণ।