অনেকের ধারণা, তাসাউফ শরিয়তবহির্ভূত কোনো বিষয়। তাদের মনে রাখা উচিত তাসাউফ শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দৃশ্যমান সব কাজের বিধি-বিধানই তো শরিয়ত। আর অদৃশ্য কাজের সমষ্টি হলো তরিকত। আত্মশুদ্ধি না হলে দৃশ্যমান সব কাজই অর্থহীন। যেমন—ইখলাস বা নিষ্ঠা একটি অদৃশ্য আমল। ইখলাস বলা হয় প্রত্যেক কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে তা শুধু আল্লাহর জন্য করা। কারো মনে ইখলাস না থাকলে ব্যক্তির নামাজও অনর্থক হয়ে যায়। কেউ যদি এই উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ে, যেন মানুষ তাকে আল্লাহভীরু, পরহেজগার ও বুজুর্গ মনে করে। তাহলে এই ব্যক্তির দৃশ্যমান নামাজ ঠিক আছে, কিন্তু ইখলাস না থাকার কারণে তা তাৎপর্যহীন হয়ে যায়। উপরন্তু তাতে গুনাহ হওয়ার ভয় আছে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে, সে (যেন) আল্লাহর সঙ্গে শিরক করল।’
(মিশকাতুল মাসাবিহ, নামাজ অধ্যায়)
কেননা এই ব্যক্তি আল্লাহকে বাদ দিয়ে আল্লাহর সৃষ্টিকে খুশি করার চেষ্টায় লিপ্ত। সুতরাং বাহ্যিক অবস্থা ঠিক করার চেয়েও আত্মিক অবস্থা শুদ্ধ করার গুরুত্ব বেশি।
আল্লাহ সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।