সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মন্দ স্বভাব ত্যাগ করাই আত্মশুদ্ধির মূল উদ্দেশ্য

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে
তাসাউফ বা আত্মশুদ্ধির মর্ম না বোঝায় মানুষ শুধু তাসাউফের সুফল থেকে বঞ্চিতই হচ্ছে না, বরং আধ্যাত্মিকতা এক শান-শওকতের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ তাসাউফ বা আধ্যাত্মিকতা বলতে বোঝে কোনো পীরের হাতে বায়াত করা এবং তাঁর কাছ থেকে কিছু অজিফা ও সবক গ্রহণ করা। পীর বলে দেন সকাল-সন্ধ্যায় এটা পড়বে, সময়মতো এটা করবে আর মুরিদও এটাকে যথেষ্ট মনে করে না। এর বাইরে আত্মার গোপন ব্যাধির চিকিৎসার কোনো উদ্যোগ নেই, চরিত্র গঠনের কোনো চেষ্টা নেই, অসৎ চরিত্রের ব্যাপারে কোনো উদ্বেগ নেই।ফলে নিয়মিত অজিফা পাঠ করার পরও মুরিদের ভেতর তার কোনো প্রতিফলন নেই, বরং তা আত্মার ব্যাধিকে আরো প্রকট করে তুলছে।

এসব অজিফা, জিকির, আমলের উপমা ভিটামিন ওষুধের মতো। ভিটামিন ওষুধের প্রয়োগের নিয়ম হলো রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে তা করতে হয়। অনেক অসুস্থ অবস্থায় ভিটামিন কার্যকর হয় না, বরং তা অসুস্থতা আরো বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে আধ্যাত্মিকতা ও পীর-মুরিদকে অন্যভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট অজিফা, জিকির, আমল করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

বলছিলাম, পূর্ববর্তী পীর ও সুফিদের মূল কাজ ছিল রোগ নিরাময় করা। হ্যাঁ, তাঁদের দরবারেও অজিফা ও জিকির ছিল, তবে তা ছিল ভিটামিনস্বরূপ। এগুলো প্রয়োগ করা হতো সংশোধনের সহায়ক হিসেবে। আসল উদ্দেশ্য ছিল অহংকার, অজ্ঞতা, হিংসা, বিদ্বেষ, কৃপণতা, প্রদর্শন, পদ-পদবির লোভ, সম্পদের মোহসহ সব আত্মিক পীড়া থেকে অন্তরকে মুক্ত করা, মুরিদের জীবনকে চারিত্রিক ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র-পরিচ্ছন্ন করা। পাশাপাশি তার ভেতর আল্লাহর ভয়, তার প্রতি ভালোবাসা, ঈমান, আস্থা, নিষ্ঠা, বিনয়সহ সব উত্তম গুণাবলি সৃষ্টি করা।

অনেকের ধারণা, তাসাউফ শরিয়তবহির্ভূত কোনো বিষয়। তাদের মনে রাখা উচিত তাসাউফ শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দৃশ্যমান সব কাজের বিধি-বিধানই তো শরিয়ত। আর অদৃশ্য কাজের সমষ্টি হলো তরিকত। আত্মশুদ্ধি না হলে দৃশ্যমান সব কাজই অর্থহীন। যেমন—ইখলাস বা নিষ্ঠা একটি অদৃশ্য আমল। ইখলাস বলা হয় প্রত্যেক কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে তা শুধু আল্লাহর জন্য করা। কারো মনে ইখলাস না থাকলে ব্যক্তির নামাজও অনর্থক হয়ে যায়। কেউ যদি এই উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ে, যেন মানুষ তাকে আল্লাহভীরু, পরহেজগার ও বুজুর্গ মনে করে। তাহলে এই ব্যক্তির দৃশ্যমান নামাজ ঠিক আছে, কিন্তু ইখলাস না থাকার কারণে তা তাৎপর্যহীন হয়ে যায়। উপরন্তু তাতে গুনাহ হওয়ার ভয় আছে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে, সে (যেন) আল্লাহর সঙ্গে শিরক করল।’

(মিশকাতুল মাসাবিহ, নামাজ অধ্যায়)

কেননা এই ব্যক্তি আল্লাহকে বাদ দিয়ে আল্লাহর সৃষ্টিকে খুশি করার চেষ্টায় লিপ্ত। সুতরাং বাহ্যিক অবস্থা ঠিক করার চেয়েও আত্মিক অবস্থা শুদ্ধ করার গুরুত্ব বেশি।

আল্লাহ সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com