২২টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান একীভূত করার চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, গ্রাহক বা আমানতকারীরা যেভাবেই এসব ব্যাংকে টাকা রাখুক, তাদের আমানতের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে গত সোমবার পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আট সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে সরকার।
একীভূত ব্যাংকের সম্ভাব্য নাম হতে পারে ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক।পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত হওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, একই সঙ্গে ২২টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান একীভূত করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। তিনি বলেন, গ্রাহক বা আমানতকারীরা যেভাবেই এসব ব্যাংকে টাকা রাখুক, তাদের আমানতের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।গাড়ি কেনা প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে মাঠ পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য ৩০০ গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি কেনার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ছিল, অর্থ মন্ত্রণালয় সেটি বাতিল করেছে।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের দেওয়া এক প্রস্তাবে মিত্সুবিশি পাজেরো কিউএক্স-২৪২৭ সিসি মডেলের প্রতিটি গাড়ির দাম ধরা হয়েছিল এক কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এসব গাড়ি কিনতে ব্যয় হিসাব করা হয় ১০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে জাপানি ভাষা জানার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের দক্ষতা থাকতে হবে। সেখানে পিএইচডি করার পর যাতে চাকরি মেলে, সে ব্যাপারেও অনুরোধ করা হয়েছে।ক্রয় কমিটির বৈঠকে সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রতিষ্ঠান আরামকো ট্রেডিংয়ের কাছ থেকে ৪৯৭ কোটি ৯০ লাখ টাকায় এক কার্গো এবং গানভর সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে ৫০২ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় এক কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। এ ছাড়া সার কেনাকাটাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, রেল মন্ত্রণালয় ও নৌপথ মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ঋণের বড় অংশ অনাদায়ি হয়ে গেছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাবে দেশের মোট ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টির বিতরণ করা ঋণের ৭৫ থেকে ৯৯ শতাংশই খেলাপি। এর মধ্যে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৯৫ শতাংশের বেশি। আর মোট ঋণের অর্ধেক বা এর বেশি খেলাপি ২২ প্রতিষ্ঠানের। সব মিলিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের ব্যাংক খাত লুট হয়। একই সময়ে লুট হয় দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও (এনবিএফআই)। এর মধ্যে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, আভিভা ফাইন্যান্সসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট করে পি কে হালদার ও চট্টগ্রামভিত্তিক বিতর্কিত শিল্প গ্রুপ এস আলম। এ জন্য সরকার পরিবর্তনের পর ২৪টি ব্যাংক এবং ২২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।