মুমিন হিসেবে সবার কর্তব্য হলো বিশুদ্ধভাবে উত্তমরূপে কোরআন তিলাওয়াত করা। আর এর আছে বহু উপকারিতা। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—‘যারা উত্তমরূপে কোরআন পড়বে, তারা থাকবে অনুগত সম্মানিত ফেরেশতাদের সঙ্গে।
পৃথিবীর বুকে কোরআন একমাত্র কিতাব, যার তিলাওয়াতে আছে হরফে হরফে নেকি। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পড়ল তার জন্য রয়েছে একটি নেকি। আর একটি নেকি ১০ নেকি সমতুল্য।
মুসহাফ বা কোরআনের টেক্সট বুক দেখে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ছিল আগের মুসলিম মনীষীদের চিরায়ত অভ্যাস। কারণ মুখস্থ তিলাওয়াতের মাধ্যমে কোরআন যতটা অনুধাবন করা যায়, মুসহাফ দেখে তিলাওয়াত করলে তার চেয়ে বেশি হৃদয়ঙ্গম করা যায়। মুসহাফ দেখে কোরআন তিলাওয়াত করার মাধ্যমে চার রকমের উপকার হাসিল হয় : (১) চোখের মাধ্যমে দেখার সওয়াব, (২) কানের মাধ্যমে শোনার সওয়াব, (৩) জিহ্বার মাধ্যমে উচ্চারণের সওয়াব এবং (৪) অন্তরের মাধ্যমে তাদাববুরের সওয়াব।
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবি ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.) বলেন, ‘আমাদের হৃদয় যদি পাপাচার থেকে পবিত্র থাকত, তবে আমাদের রবের কালামে এরা কখনো পরিতৃপ্ত হতো না।
আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, ‘প্রতিদিন একবার হলেও আমার রবের প্রতিশ্রুতি (কোরআনের) দিকে একবার নজর না বুলানোকে আমি খুই লজ্জাবোধ করি।’ (তাফসিরে কুরতুবি : ১/২৮)
উরওয়া ইবনে জুবায়ের (রহ.) প্রতিদিন মুসহাফ দেখে দেখে কোরআনের এক-চতুর্থাংশ তিলাওয়াত করতেন। অতঃপর রাতের সালাতেও তিলাওয়াত করতেন। তবে যে রাতে তাঁর পা কাটা হয়েছিল সে রাতে এ আমলটা করতে পারেননি। তাই পরের রাতে ছুটে যাওয়া অংশ তিলাওয়াত করে নেন।
উল্লেখ্য যে পায়ে ক্যান্সার হয়েছিল বিধায় তাঁর পা কেটে ফেলা হয়েছিল। (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান : ৩/৫৩১)