সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শরৎ কিন্তু ভালো নেই

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে
কী করে ভালো থাকবে? শরৎ   হচ্ছে স্নিগ্ধতার ঋতু, আর চারদিকে আজ এমন প্রচণ্ড বীভৎসতা বিরাজমান যে শরতের স্নিগ্ধতার পক্ষে বেঁচে থাকাই কঠিন।শরৎ   না-শীতের, না-গ্রীষ্মের। তার আকাশে শ্রাবণের ঘনঘটা থাকে না; মেঘ থাকে, তবে তারা ভেসে বেড়ায় পুঞ্জ পুঞ্জ তুলার মতো। শরতের আকাশ পরিচ্ছন্ন।তার সকাল প্রসন্ন। দুপুরে ভীষণ রকমের তাপ নেই। শরতের স্বভাবে শিউলি ফুলের মিল আছে; সে নম্র, ভদ্র। শিউলি শরতেরই ফুল।শরতের পক্ষে তাই প্রচণ্ড হওয়ার উপায় নেই; ওই পথে গেলে শরৎ   শরৎ   থাকে না। যাবেই বা কী করে? তার স্নিগ্ধতা তো খরদাহের রূপ নিতে পারে না। আর পারে না বলেই সে বড়ই বিপদের ভেতর রয়েছে।যে দুই মাসের হিসাব করে শরেক আমরা চিনতে চাই, সেই ভাদ্র ও আশ্বিনের ভেতর সম্পর্কটি হওয়ার কথা ভাই ও বোনের।সম্পর্কটি আসলেও ওই রকমেরই। কিন্তু ভাই তো বোন নয়। ভাদ্র ও আশ্বিনে পার্থক্যটি আগেও ছিল, এখন তা আরো প্রবল হয়েছে। ভাদ্রে তাপ থাকে, সেই তাপে গাছের তাল পর্যন্ত পেকে যায়। ওই ভাদ্র এখন দেখি আরো বেশি উত্তপ্ত এবং প্রসারিত।শরৎ   শান্ত, ভাদ্রের মতো তত নয়, যত সে আশ্বিনের মতো। শরতে শীত আসে না, তবে আসবে যে সেটি জানা যাচ্ছে। শীতের কথা শরৎ   জানায়, কিন্তু জানায় সে ভদ্রভাবে, সকালবেলার শিশিরের পরশ বিছিয়ে দিয়ে। ওই ভদ্রতায়ই তার বিপদ, কেননা পৃথিবী এখন বড়ই উগ্র; ভদ্রতার স্থান কোথাও নেই, নেই আমাদের এই বাংলাদেশেও।আমরা বলি গ্রীষ্মপ্রধান দেশে আমাদের বসবাস; গ্রীষ্মপ্রধান নয়, আসলে আমরা বাস করি গ্রীষ্মের ভেতরেই। গ্রীষ্মকাল সব সময়ই এখানে প্রধান ছিল, এখন একেবারে একচ্ছত্র হওয়ার পথ খুঁজছে। এবং পথ যে খুঁজে পায়নি এমন নয়। গ্রীষ্মের চাপে শীত এখন সংকুচিত, বেশ ম্রিয়মাণ; যেন দরিদ্র অবাঞ্ছিত আত্মীয়, সরে পড়তে পারলে বাঁচে। গরমের কারণেই শীত আমাদের অনেকের প্রিয় ঋতু, ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের তো বটেই। তবে আমাদের জন্য স্বাভাবিক ঋতু হচ্ছে বর্ষা। হ্যাঁ, গ্রীষ্ম নয়, এমনকি শীতও নয়। আমরা নদীমাতৃক, পানিতে অভ্যস্ত। বর্ষা আমাদের জীবন্ত রাখে, প্রাণবন্ত করে। বর্ষা মমতায় ভরা।

কিন্তু বর্ষা তো আগের মতো আর নেই। সময়মতো সে আসে না, পৌঁছতে বিলম্ব ঘটে। তার অবস্থানও সংক্ষিপ্ত, গ্রীষ্মের দাপটে। মমতা ভুলে বর্ষা আমাদের প্লাবিত করে, কখনো কখনো মনে হয় ডুবিয়ে মারবে। জলাভূমি ভরাট হয়ে গেছে, জলাশয় নিশ্চিহ্ন, নদীর পানি দূষিত। কোথাও দেখা যায় চিহ্ন আছে ঠিকই, তবে নদী নেই। ওদিকে উন্নতির কঠোর কুঠারাঘাতে গাছপালা ক্রমাগত নিশ্চিহ্ন হচ্ছে। সব দিক দিয়েই গ্রীষ্মের সুবিধা। প্রকৃতির নিজের ভেতর এখন আর তেমন শক্তি নেই যে গ্রীষ্মকে প্রতিহত করে। মানুষও পারে না। যারা ক্ষমতাবান তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের আশ্রয় নেয়, নিয়ে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মের প্রকোপ বাড়ছে—যেমন প্রকৃতির ওপর, তেমনি মানুষের ওপর।

গ্রীষ্মকালের স্বভাবটি পুঁজিবাদের মতো। উভয়েই ভীষণভাবে পুরুষতান্ত্রিক। পিতৃতান্ত্রিক বলাটাও অসংগত নয়। গ্রীষ্মের মতোই পুঁজিবাদ দাম্ভিক এবং উত্তপ্ত। দুয়ে মিলে ধরণিকে তপ্ত করে তুলেছে। পুঁজিবাদ জ্বালানি পোড়ায়, বরফ গলায়, সমুদ্রকে স্ফীত করে। উত্ত্যক্ত করে প্রকৃতিকে। সমুদ্র তাই ফুঁসে উঠছে। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস পরিণত হয়েছে নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনায়। জলবায়ু বিপর্যয় সারা পৃথিবীকেই আঘাত করছে। গরিব মানুষ ও গরিব দেশেরই ভোগান্তি বেশি, তারা গরিব বলেই।

এই বিপদে বাংলাদেশের জন্য বিপদটি অধিক। আমরা গ্রীষ্মকে নানাভাবে তোয়াজ করি। তার বীরত্বের, প্রবলতার, পৌরুষের প্রশংসা শোনা যায় আমাদের শিল্প-সাহিত্যে। কিন্তু রুষ্ট গ্রীষ্ম তাতে তুষ্ট হয়নি, বরং বর্ষে বর্ষে প্রবল হয়েছে। অন্য সব ঋতুরা জব্দ হচ্ছে তার হাতে। বিশেষ রকমের বিপদটা শরৎকালেরই।

শরৎ   অবশ্য টিকে থাকবে। থাকবে সে শারদীয় দুর্গোৎসবে, রইবে টিকে স্মৃতিতে, সংস্কৃতিতে, কল্পনায়। কতটা বেঁচে থাকবে সে নিয়ে ভারি সন্দেহ। কিন্তু তাকে বাঁচিয়ে রাখা চাই। তার স্বার্থে নয়, আমাদের স্বার্থে। সে জন্য দরকার পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। গ্রীষ্মের এবং পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্য। পরস্পরের সহযোগী ও পরিপূরক। দাঁড়ানো দরকার পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে, গ্রীষ্মকে যে তপ্ত, ভয়ংকর ও সম্প্রসারিত করে তুলছে। দাঁড়ানো চাই শরতের পক্ষে।

শরতের পক্ষে দাঁড়ানোর অর্থ হলো শরতের স্নিগ্ধতা, ভদ্রতা, প্রসন্নতা, উজ্জ্বলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া। পুঁজিবাদ যে মানুষের জন্য কত বিভিন্ন ধরনের বিপদ ও ক্ষতির কারণ হতে পারে, তার প্রমাণ আজ শরতের বিপন্নতার মধ্যে দেখতে পাই। শরেক সঙ্গে নিয়ে, কার্তিক পার হয়ে আমরা অগ্রহায়ণে যাব, পৌঁছব গিয়ে আমাদের জন্য চিরকালের বান্ধব শীতের কাছে। নইলে আমরা টিকব হয়তো, কিন্তু বাঁচব না। ঘটনাটি এমনি এমনি ঘটবে না, ঘটবে সে পুঁজিবাদকে প্রতিহত করার ভেতর দিয়েই।

শরতের ওই গুণগুলোর জন্য বিপন্ন বিশ্ব আজ লড়ছে, লড়তে হবে আমাদেরও।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com