মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মেট্রোরেল স্টেশনে বসছে শপিং ও বুথ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার মেট্রোরেলে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে স্টেশনভিত্তিক দোকান, ব্যাংকের বুথ ও বিজ্ঞাপন ভাড়া দেওয়ার। ইতিমধ্যে ৩১টি দোকান ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মেট্রোরেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় প্রকল্প থেকে নির্বাহ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির শর্তেই এ ব্যয়ের বিষয় রয়েছে। কিন্তু আগামী বছর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর রক্ষণাবেক্ষণ করবে না। ফলে মেট্রোরেল পরিচালনায় ব্যয় বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে আয় বাড়ানো না গেলে ট্রেন পরিচালনায় চাপ সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে মেট্রোস্টেশনে ১১টি ব্যাংকের ১৪৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। একেকটি স্টেশনে একাধিক ব্যাংকের বুথ রয়েছে। এগুলো উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ ভাড়া পায়। এ ছাড়া চারটি স্টেশনের নিচে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়েছে। এসব স্টেশন হচ্ছে উত্তরা (উত্তর), আগারগাঁও, ফার্মগেট ও কমলাপুর। এসব অব্যবহৃত জায়গায় স্টেশন প্লাজা নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য পার্কিং ভাড়া দেওয়া ও দোকান বরাদ্দের কথা রয়েছে। আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ছাড়া মেট্রোরেলের উত্তরা (উত্তর) থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মোট ১৪টি স্টেশনে ৩১টি দোকান ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ। এসব দোকান ইতিমধ্যে স্টেশনের কনকোর্স হলের ননপেইড অঞ্চলে আছে; যা লাল শাটার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ইজারা সম্পন্ন হলে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দোকান সাজিয়ে নিতে হবে। এ জন্য নীতিমালা তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএমটিসিএল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভাড়া নিতে আগ্রহীরা ১৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালীন মেট্রোরেল ভবনের (৩১৯ নম্বর রুম, লেভেল-৩, দিয়াবাড়ি, উত্তরা) অফিস থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতিটি ফরমের মূল্য ৫ হাজার টাকা, যা পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিতে হবে (অফেরতযোগ্য)। ইতিমধ্যে ৩০টির মতো আবেদন জমা পড়েছে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া নেওয়ার জন্য কিছু মৌলিক যোগ্যতা থাকতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, আয়কর প্রদানের প্রমাণপত্র, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ব্যাংকের ইস্যুকৃত গত এক বছরের লেনদেন বিবরণী ও আর্থিক সচ্ছলতার সনদপত্র।
স্টেশনে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য যেসব দোকান রয়েছে, এগুলোর আয়তন ২০০ থেকে ২০০০ বর্গফুট। সর্বোচ্চ চারটি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে উত্তরা উত্তর স্টেশনে। পল্লবী, কাজীপাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সচিবালয় স্টেশনে ইজারা দেওয়া হবে তিনটি করে দোকান। দুটি করে দোকান রয়েছে উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, মিরপুর-১১, শেওড়াপাড়া, বিজয় সরণি ও মতিঝিল স্টেশনে। ফার্মগেট, শাহবাগ ও মিরপুর-১০ স্টেশনে বরাদ্দ দেওয়া হবে একটি করে দোকান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেট্রোরেলে যাতায়াতের ওপর সরকার এখনো ভ্যাট মওকুফ রেখেছে। এর পরও আশপাশের দেশের তুলনায় ঢাকার মেট্রোরেলের ভাড়া বেশি। এ অবস্থায় ভাড়া বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি করার সুযোগ খুব একটা নেই। মেট্রোরেলের চলাচল বাড়ানো, স্টেশনের কাছে গাড়ি পার্কিং ও বিপণিবিতান ভাড়া দিয়ে আয় বৃদ্ধি করাটা ভালো বিকল্প। এই বাণিজ্যিক ব্যবস্থাগুলো যেন যাত্রীসেবার ক্ষতি না করে, সেদিকেও সমান দৃষ্টি রাখতে হবে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামছুল হক বলেন, মেট্রোরেলের আয় বাড়াতে হবে। তবে যত দোকান পরিকল্পিত আছে, তার বেশি দেওয়া যাবে না। দোকানগুলো থেকে যাত্রী বা সাধারণ মানুষ সঠিক সেবা পেলেন কি না, বা ঠকানো হচ্ছে কি না, এগুলোও দেখতে হবে। এমনভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে যাতে যাত্রীদের অসুবিধা না হয়। আবার একজনে বরাদ্দ নিয়ে অন্যজনকে দেওয়া ও রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালনা যাতে না হয়, তা দেখতে হবে।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফারুক আহমেদ বলেন, যাত্রীদের ওপর বাড়তি ভাড়া চাপানোর সুযোগ কম। এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে, মেট্রোরেলের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে যাত্রী আয় বাড়ানো। এর বাইরে দোকান ও ব্যাংকের বুথ ভাড়া দিয়ে, বিজ্ঞাপন প্রচার করে আয় বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও খরচের চাপ কমবে।

Advertisement

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com