প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদ বিভাগের ৪১তম সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। মানবতাবিরোধী মামলায় যারা অভিযুক্ত হবেন তারা আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) আইনের সংশোধনীতে এমন বিধান যুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আইসিটি আইনের সংশোধনী আনা হয়। পরে বিকালে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের বেসরকারি অংশগ্রহণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন/বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা-২০২৫’, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা-২০২৫’ এবং আইন ও বিচার বিভাগের ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (তৃতীয় সংশোধনী) অধ্যাদেশ-২০২৫’ এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
শফিকুল আলম বলেন,আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) আইনে সংশোধনী এনেছে সরকার। এই সংশোধনীর ফলে মানবতাবিরোধী মামলায় যারা অভিযুক্ত হবেন তারা আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি সরকারি চাকরির জন্য আবেদনও করতে পারবেন না। অধ্যাদেশটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩-এ নতুন সেকশন ২০ (সি) যুক্ত করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই আইনে সেকশন ৯ (১) এর অধীনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল হলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকার অযোগ্য হবেন। একইভাবে, তিনি স্থানীয় সরকার পরিষদ বা প্রতিষ্ঠানের সদস্য কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকার অযোগ্য হবেন। এমনকি প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া বা অন্য কোনো পাবলিক অফিসে অধিষ্ঠিত হওয়ারও অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।