ফেরারি আসামিকে সংসদ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা, সমভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে লটারির বদলে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করাসহ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ বা আরপিও সংশোধনীর জন্য ৪৬টি সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আরপিওর জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৬টি সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীটি চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে গত মঙ্গলবার পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আরো আছে, প্রার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারবেন না, প্রার্থীরা নিজ সংসদীয় আসনের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য হতে পারবেন না। কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে নির্বাচন কমিশন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এ ছাড়া আদালত কর্তৃক ঘোষিত ফেরারি আসামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—এমন বিধান করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
ইসি সানাউল্লাহ আরো বলেন, ‘বিদ্যমান আরপিওতে প্রার্থীর হলফনামায় আয়ের উৎস ও সম্পদের বিবরণ দিতে বলা আছে।এখানে আমরা আরেকটু অ্যাড করেছি, বোথ অ্যাট হোম অ্যান্ড অ্যাব্রড। অর্থাৎ দেশে ও দেশের বাইরের আয়ের উৎস ও সম্পদের বিবরণী দিতে হবে।’
তিনি বলেন, যদি কোনো প্রার্থী তাঁর হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন এবং এর প্রমাণ হলে নির্বাচন কমিশন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং এমনকি তাঁর প্রার্থিতাও বাতিল হবে এবং তিনি সংসদ সদস্য পদ হারাবেন। কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে সে আসনে ‘না’ ভোটের বিধান প্রয়োগ হবে।এককপ্রার্থী’ ও ‘না’ ভোটের মধ্যে যদি ‘না’-তে বেশি ভোট পড়ে তাহলে পুনঃ তফসিল হবে। পরে সেই তফসিলে আবারও একক প্রার্থী থাকলে সেই প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে গেলেও জোটের শরিক দলগুলোকে নিজেদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে।আগামী সংসদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়ন দাখিল করার সুযোগ থাকবে কি না—জানতে চাইলে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘বিদ্যমান শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে, জাতীয় নির্বাচনে ছিল না। এটা আমরা নতুন করে যোগ করব বলেছিলাম, কিন্তু এখন আমরা এটা যোগ করছি না।কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলে সেই দলের নেতারা কি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যে রাজনৈতিক দল কোনো কার্যক্রম চালাতে পারছে না, সেই রাজনৈতিক দলের নাম নিয়ে কেউ নির্বাচন করতেও পারবেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কিভাবে অংশ নেবেন সেটা সময়ই বলে দেবে।