বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। তবে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপির অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। এ জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।গতকাল রবিবার রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।সভায় ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনার পাশাপাশি দলটির ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।তারেক রহমান বলেন, ‘গত বছর আমি বলেছিলাম, নির্বাচন ঘিরে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। আজ তা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। জনগণও তা উপলব্ধি করতে শুরু করেছে।
এ সময় মব ভায়োলেন্সকে প্রশ্রয় না দেওয়া, নারীর সম্মান, মর্যাদা ও অধিকারের প্রতি শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়ার প্রতিটি সৈনিককে সংবেদনশীল এবং শ্রদ্ধাশীল থাকার কথাও বলেন তারেক রহমান।তিনি বলেন, ‘সংস্কারের গুরুত্ব আছে, তবে শর্ত শিথিল করে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পথ সুগম করা এখন সময়ের দাবি। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। আর রাজনৈতিক দলের যৌক্তিক দাবিগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়ে যাবে।’
নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে : মির্জা ফখরুল
আলোচনাসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজ একটি মহল নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বলা হচ্ছে, পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন হবে না। এতে স্পষ্ট হুমকির ইঙ্গিত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার সংস্কার করতে চেয়েছে, আমরা একমত হয়েছি। রাজনৈতিক দলগুলোও একমত। আমরা সেই সংস্কারে একমত, কিন্তু ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমরা কখনো পিছু হটব না।’
বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘যেভাবে ভোট দিয়ে এসেছি, সেভাবেই আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করব। কোনো হুমকিতে বাংলাদেশের মানুষ মাথা নত করবে না।’
সভা সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রফিকুল ইসলাম মজনু, যুবদলের এম মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানী, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান প্রমুখ।